নাটোরের সিংড়ায় রাজনৈতিক সহিংসতায় জিয়া পরিষদের এক নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনার জেরে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে এক বৃদ্ধা নারী প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। নিহত রেজাউল করিম (৫৩) সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ও নাটোর জেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি বিলহালতি ক্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের খাবার শেষে বাড়ির আশপাশে হাঁটার সময় দুর্বৃত্তরা রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন মুন্সির ভাতিজা আবদুল ওহাবের বাড়ি ও দোকানে আগুন দেয়। আগুনে পুড়ে সাবিহা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সির বড় ভাইয়ের স্ত্রী।
সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, রেজাউল করিমের গলা ও মুখমণ্ডলে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং উভয় ঘটনার বিষয়ে পৃথক আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ডিবি শাখা রোববার (৮ মার্চ) রাত পৌনে দুইটার দিকে শহরের ব্যাপারীপাড়া ও পায়রা চত্বর এলাকা থেকে বাসে অগ্নিসংযোগ এবং তেলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনায় সাতজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহ তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় সাবেক সদস্য নয়নের মৃত্যু ও প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং একটি পেট্রলপাম্পে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা অভিযোগ করেছেন, ডিবি কার্যালয়ে তাদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ রয়েছে।
নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় ফোনের পরিচয় সূত্রে দেখা করতে গিয়ে এক চার সন্তানের মা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ রিদয় মিয়া (৩২) নামের একজনকে গ্রেফতার করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে ভুক্তভোগীর মোবাইলে রিদয় মিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে বাজার থেকে ঘরে ফেরার পর তিনি একা রিদয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। রাস্তায় সংলাপের একপর্যায়ে রিদয় তাকে পুকুরপাড়ের দিকে টেনে নেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে তারা ভুক্তভোগীর মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণকারী রিদয় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ স্বীকার করেছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্থানীয় কারখানায় আশ্রয় নেন এবং তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ রোববার (৮মার্চ) গ্রেফতার আসামিকে আদালতে প্রেরণ করবে। এই ঘটনায় স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, নারীর নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পরিধি বাড়ানো হয়েছে, এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি রাখা হচ্ছে।
গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় এক ছিনতাইকারীকে জনতা ধরে গণধোলাই দিয়েছে এবং পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি মাইন উদ্দিন (৩২)। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, তিনি এরশাদনগরের ভাড়া বাসায় থাকেন। বুধবার (০৪ মার্চ) রাতের ঘটনায় মাইন উদ্দিন ও তার দুই সহযোগী পথচারীকে লক্ষ্য করে ছিনতাই শুরু করলে একজন ভুক্তভোগীকে রক্তাক্ত করা হয়। জনতার তৎপরতায় একজন ছিনতাইকারী আটক হয়, বাকি দুইজন পালিয়ে যায়। গণধোলাইয়ের এক পর্যায়ে আটককের হাতের কবজি কেটে ফেলা হয়। ভুক্তভোগীকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, জনতার হাতে আটক মাইন উদ্দিন এখন পুলিশ হেফাজতে আছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।