আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ‘পরিবর্তনের চাবি আপনার হাতে’ শিরোনামে গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় গণসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বোদা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ডিজিটাল স্ক্রিনে গণভোট বিষয়ক অবহিতকরণ চিত্র প্রদর্শন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

প্রচারচিত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা, সংবিধান পরিবর্তনে গণভোট বাধ্যতামূলক করা, প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি দায়িত্বে না থাকা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সভাপতিত্ব, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, উচ্চকক্ষ গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ না করা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ রাষ্ট্র কাঠামোর ৩১টি সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মানুষ গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
এ সময় বোদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, গণভোট বিষয়ে জনগণকে জানানো আমাদের দায়িত্ব। তবে ভোট কীভাবে দেবেন, তা সম্পূর্ণভাবে ভোটারদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শেরপুরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী মাছের মেলা। কুশিয়ারা নদীর তীরে আয়োজিত এই মেলা এখন শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত চলা এ মেলা সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুর বাজারসংলগ্ন মাঠ ও নদীর পাড়জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, মেলার ইতিহাস প্রায় একশ বছর হলেও প্রবীণদের অনেকে এর বয়স দেড়শ থেকে দুইশ বছর বলে দাবি করেন। মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা বাঘাইড়, বোয়াল, আইড়, চিতল, কাতলা, রুইসহ নানা প্রজাতির বড় দেশি মাছ বিক্রি করছেন। মাছের আকার ও প্রজাতিভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। এ বছর একটি বড় বাঘাইড় মাছের দাম হাঁকা হয়েছে এক লাখ টাকা। মাছের পাশাপাশি মেলায় কৃষিপণ্য, পিঠাপুলি, বাঁশ–বেত ও কাঠের সামগ্রী, খেলনা, শীতবস্ত্রসহ নানা লোকজ পণ্যের দোকান বসেছে। প্রতিদিন মৌলভীবাজারসহ আশপাশের জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ভিড় করছেন। মেলার ইজারাদার আব্দুল হামিদ জানান, এ বছর প্রায় ২০টি পাইকারি ও আড়াই শতাধিক খুচরা মাছের দোকান বসেছে। কয়েক কোটি টাকার বেচাকেনার আশা করছেন আয়োজকেরা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব হাসান বলেন, প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে মেলার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা হয়েছে। মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় হাওর ও কুশিয়ারা নদীর মাছ বিক্রির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মেলা আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় পরিণত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০ টাকা। তবে তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ৮২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬৮ টাকার। আজাদের কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাড়ি না থাকলেও২৭ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে বলে জানা গেছে। গত সাত বছরে তার স্ত্রী খন্দকার নাঈমা নুসরাতের সম্পদ ও অর্থ বেড়েছে ৮৪১ গুণ। শোধ হয়েছে কোটি টাকার ঋণও। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। হলফনামায় তিনি নিজের এবং তার উপর নির্ভরশীল স্ত্রী-সন্তানের আয়, সম্পদ ও ঋণের তথ্য উল্লেখ করেছেন। যাতে বলা হয়েছে, আজাদের তুলনায় বর্তমানে তার স্ত্রী খন্দকার নাঈমা নুসরাতের সম্পদ ১২ গুণেরও বেশি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আড়াইহাজার উপজেলার এই আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে আজাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক।
জ্যোতিষী গো জ্যোতিষী, হাত গুইনা কও দেখি, মনে মনে যারে চাই তারে পামু কি, ....বাংলার সিনেমার জনপ্রিয় গান হলেও তারই যেন প্রতিচ্ছবি হয়ে সৈয়দপুরে আজও দীর্ঘ ২১ বছর ধরে হাতের রেখা দেখে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে আসছেন জ্যোতিষী শ্রী কমল রায়। তিনি রেলওয়ে মাঠের পাশে পুবালী স্কাউট বিজ্ঞান ক্লাবের পাশ থেকে শুরু করে রেলবাজার পর্যন্ত তাবু ও রঙিন পাথর দিয়ে স্থাপনা গড়ে বসে থাকেন। জ্যোতিষী কমল রায় জানান, তিনি যুবক বয়সে গুরু ননী গোপাল ঠাকুর থেকে জ্যোতিষী শাস্ত্রের শিক্ষা নেন। দীর্ঘ বছর ধরে গণক ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসার কাজ করে আসছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের হাতের রেখা দেখে পরামর্শ দেন, যার বিনিময়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করে পরিবারের চারজনের সংসার চালান। কমল রায় বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন—বিবাহ-বিচ্ছেদ, প্রেমের ব্যর্থতা, পারিবারিক ঝামেলা, মানসিক অশান্তি, মামলা মোকদ্দমা, ব্যবসায়িক ক্ষতি, সন্তান লাভে বাধা ও দুর্ঘটনার ভয় দূরীকরণ। তিনি বলেন, মানুষের বিশ্বাস থাকলে তারা পুনরায় পরামর্শ নিতে আসে। হাতের রেখা ও রাশিফলের মাধ্যমে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের শুভাশুভ নির্ণয় করা জ্যোতিষীর প্রধান কাজ। রফিকুল নামের একজন গ্রাহক জানান, তিনি জমি ও পারিবারিক সমস্যা নিয়ে জ্যোতিষীর পরামর্শ নেন। যুগের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে জ্যোতিষী বা গণকের প্রতি আগের বিশ্বাস কমে গেলেও কমল রায়ের মতো কিছু জ্যোতিষী এখনো ভক্তদের বিশ্বাসে সংসার চালাচ্ছেন। ইতিহাস বলে, অতীতে রাজা-বাদশাহরাও জ্যোতিষীদের ক্ষমতার ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতেন না। বর্তমানেও এমন কিছু মানুষের বিশ্বাস জ্যোতিষীদের কার্যক্রমকে চলমান রাখছে।