ঝিনাইদহ শহরের ব্যস্ত পাগলাকানাই মোড়টি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দোকানদারদের দখলে। সড়কের জায়গা দখল করে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর কারণে যানজট এবং পথচারীর ভোগান্তি বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘রাফসান স্টোর’-এর মালিক শাহ আলম তার মূল দোকানের সামনে টিনের চাল দিয়ে অবৈধভাবে দোকান সম্প্রসারণ করেছেন। এছাড়া নাসির হোটেল, রশিদ হোটেল, মামুন হোটেলসহ কয়েকটি দোকানও সড়কের জায়গা দখল করে সম্প্রসারণ করেছে। সড়কের ওপর ভ্রাম্যমাণ ফল, সবজি ও বিভিন্ন দোকানের সারি পরিবহন ও হাঁটাচলার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

পথচারী শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন অফিসে যাতায়াতের সময় যানজট লেগে থাকে। হাঁটাচলার জায়গা নেই।” অটোরিকশা চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “যাত্রী নামাতে-উঠাতে সমস্যা হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি সর্বদা থাকে।”
ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হাফিজুর রহমান বলেন, “সড়কে কোনো অননুমোদিত স্থাপনা ও দোকান বসানো যাবে না। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে পাগলাকানাই মোড় দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান না হলে যানজট আরও বেড়ে জনভোগান্তি ভয়াবহ আকার নেবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অর্থনীতি বা সামরিক শক্তিতে ছোট করে দেখলেও গণতন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, দেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ে ‘২৪-এর আন্দোলন’ বিশ্বে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশের মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কও উন্নত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও সরবরাহের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ তেল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৭ জনকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মতির মোড় বাইপাস সড়কে মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করেন মো. সাব্বির হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এ সময় পুলিশের একটি দল অভিযান সহায়তা করে। প্রশাসন জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ফিলিং স্টেশনটি নজরদারিতে রাখা হয়। পরে পাশের একটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে একটি নোয়া গাড়ি ও একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়, যেগুলো জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে পরিবর্তন করা ছিল। তল্লাশিতে কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে অবৈধ মিনি পাম্প স্থাপন করে অকটেন ও পেট্রোল স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া নোয়া গাড়ি থেকে জ্বালানি সরবরাহের সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের জার উদ্ধার করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. রফিকুল ইসলাম (২৬)-কে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া আরও ৬ জনকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, জব্দকৃত জ্বালানির পরিমাণ নির্ধারণে তা নিকটস্থ পাম্পে নেওয়া হয়েছে এবং যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন আরও জানায়, একটি চক্র লরি, কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে অবৈধভাবে তেল মজুদ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উচ্চ দামে বিক্রি করছিল। অভিযানে এ কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা বরিশালের গৌরনদীতে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহিরকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গৌরনদী, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি প্রদান সংবিধান স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত, যা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত হুমকিদাতাকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সমাবেশে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগজনক। অতীতে সংঘটিত বহু সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকায় অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অনতিবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত “সাংবাদিক সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।