ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে এগোতে দিতে চায় না জামায়াতে ইসলামী এবং তারা দেশটিকে আফগানিস্তানের মতো করতে চায়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিজের নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগকালে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নারীদের কর্মসংস্থানে বাধা দিচ্ছে এবং মেয়েদের ঘরে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তিনি জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া মন্তব্যকেও নারীবিদ্বেষী উল্লেখ করে নিন্দা জানান।
ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত হিন্দু সম্প্রদায়কে হুমকি দিচ্ছে। তিনি সবাইকে নির্ভয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে এখন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে এবং বিএনপি সব দলকে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশ এখন আপনার হাতে, তাই ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী-৪ আসনে ভোটের উত্তাপ তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা এবার পরস্পর মুখোমুখি, ফলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সময় এই আসনে জাতীয় পার্টির আঞ্চলিক ভোট ব্যাংক তৈরি হয়েছিল। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙে দেন। বর্তমানে জামায়াত তাদের ভোটার আস্থা কাজে লাগিয়ে নতুন ভোট ব্যাংক তৈরি করতে মরিয়া। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দলটির সমীকরণ আরও জটিল করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটের চূড়ান্ত লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে। ভোটারদের দৃষ্টিকোণ এবং প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করবে কে জয়ী হবে। জাতীয় পার্টি আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য সাবেক এমপি ও শিল্পপতিকে প্রার্থী করেছে। মাঠে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্যমী করেছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। তবে কিছু প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় দলের কিছু ভোটার অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। নীলফামারী-৪ আসনটি কিশোরগঞ্জের ৯টি ইউনিয়ন এবং সৈয়দপুরের ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন পেয়ে প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ধানের শীষে অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, জামায়াত দাঁড়িপাল্লায় হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, জাতীয় পার্টি লাঙলে সিদ্দিকুল আলম প্রার্থী। এছাড়া হাতপাখা, ফুটবল, মোটরসাইকেল, ঘোড়া, কাঁচি, কাঁঠাল প্রতীকের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (২ জানুয়ারি) ওই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রিটটি দায়ের করেন। রিটে ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে। নাহিদ ইসলামের পক্ষে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা ও অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী। আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, চলতি সপ্তাহেই রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুম—উভয়ের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় নিহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা রেজাউল করিমের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও তার কবর জিয়ারত করতে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে উপস্থিত হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সকালে হেলিকপ্টারযোগে গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে কালো মাইক্রোবাসে শহীদ রেজাউল করিমের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। সেখানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন, তাদের ধৈর্য ও ঈমানি শক্তি ধরে রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ মুহূর্তে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ রেজাউল করিমের মাত্র তিন বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, যা উপস্থিতদের চোখে অশ্রু এনে দেয়। পরবর্তীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি শহীদ রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর রুহের মাগফিরাত ও শাহাদাত কবুলের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন জামায়াত কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ড. ছামিউল হক ফারুকী, মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা।