বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমীতে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী পরিকল্পনা ও সামাজিক সহায়তা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান এ্যাডভাইজার জিয়া উদ্দির হায়দার, গ্রাস রুট নেটওয়ার্কের কো-অর্ডিনেটর সাইমুন পারভেজ এবং রিসার্চ এন্ড মনিটরিং সেলের সদস্য অধ্যাপক আবদুল আল মামুন। তারা বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড, প্রান্তিক পরিবারের নারীর নামে ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র ও সহায়তা কার্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিকল্পনার দিক তুলে ধরেন।

এসময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিএম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খোলনায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক রাজনৈতিক দলের নারী ও শ্রমিকদের প্রতি অসম্মানজনক মনোভাবকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নারী সমাজের সম্পৃক্ততা অনিবার্য, কারণ দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের অর্ধেকই নারী। নারী নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন এবং কর্মজীবী নারীদের অসম্মান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নিতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনা নির্বাচনী মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা থেকে বেলা ১১টা ১০ মিনিট হেলিকপ্টার যোগে খুলনার উদ্দেশে রওনা করেন। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গার্মেন্টস খাতে প্রায় ৫০ লাখ নারী কর্মরত, যারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কোনো রাজনৈতিক দল যদি তাদের ঘরে আটকে রাখতে চায়, তবে তা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে। জামায়াত আমিরের নারীদের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকে উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আইডি হ্যাকের দাবি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা। তারেক রহমান সতর্ক করেছেন, যারা মানুষের আত্মসম্মান ও নারীর মর্যাদা উপেক্ষা করে, তারা দেশের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়। সমাবেশে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজার কর্মমুখী চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেশের নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। এমনি বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান নারীদের অধিকার ও নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করেছেন এবং ভোটারদের ন্যায়সংগত ও সচেতন নির্বাচনী অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে এগোতে দিতে চায় না জামায়াতে ইসলামী এবং তারা দেশটিকে আফগানিস্তানের মতো করতে চায়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিজের নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগকালে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নারীদের কর্মসংস্থানে বাধা দিচ্ছে এবং মেয়েদের ঘরে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তিনি জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া মন্তব্যকেও নারীবিদ্বেষী উল্লেখ করে নিন্দা জানান। ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত হিন্দু সম্প্রদায়কে হুমকি দিচ্ছে। তিনি সবাইকে নির্ভয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে এখন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে এবং বিএনপি সব দলকে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশ এখন আপনার হাতে, তাই ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ (বোদা–দেবীগঞ্জ) আসনের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়ন থেকে চারজন প্রার্থী সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ইউনিয়নের ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দ্বিধা ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সাকোয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গর্ব থাকলেও প্রকাশ্যে কারো পক্ষে অবস্থান নিতে অনাগ্রহী সাধারণ ভোটাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, এক প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলে অন্যদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই নীরব ভূমিকা পালন করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাকোয়া ইউনিয়ন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সফিউল্লাহ সুফি (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির লুতফর রহমান রিপন (লাঙ্গল), কমিউনিস্ট পার্টির আশরাফুল ইসলাম (কাস্তে) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমন (ঘোড়া) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের বাড়ি সাকোয়া বাজারের এক কিলোমিটারের মধ্যেই এবং সবাই পরস্পরের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের পর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা প্রকাশ্যে ভোটের পক্ষে প্রচারণা এড়িয়ে চলছেন। উল্লেখ্য, এ আসনে এসব প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপি, জাসদ, সুপ্রিম পার্টিসহ আরও চারজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।