আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে যতই দিন এগোচ্ছে, পঞ্চগড়ের দুটি আসনে নির্বাচনী প্রচারণার উত্তাপ তত বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এলাকায় সমর্থক ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কাক ডাকা ভোট, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও বাড়ি-বাড়ি ভোট প্রার্থনা চালাচ্ছেন।
পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বোদা সদর ইউনিয়নের বালাভীড় গ্রামে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত করেন। এতে শতশত নারী-পুরুষ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। তিনি একাধিক স্থানে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।
প্রার্থীর সরাসরি সংযোগ ও এলাকায় উপস্থিতি তার নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “জামায়াত সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘুতে বিশ্বাস করে না, আমরা ১৮ কোটি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আগামীর দেশ গড়তে চাই। কোন দল বা ব্যক্তি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে পারবে না, অথচ বিরোধীপক্ষ জনগনকে বিভ্রান্ত করছে।” সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে নীলফামারী-০৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুত্তাকিমের সমর্থনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আজহারুল ইসলাম বলেন, “ক্ষমতায় এলে সবার আগে দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। দেশের অর্ধেক কাজ তখনই হবে। ১৭ বছর পালিয়ে থাকা কোনো নেতা জনগনের বন্ধু নয়।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াত ফ্যামিলি কার্ড বা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে না, আমরা দেশে ইনসাফ কায়েম করতে চাই।” জনসভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত ও জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “যুবকরা ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদ রোধের জন্য জনগণ ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না।” সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলের মাধ্যমে যোগ দেন।
কিশোরগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর ফেরার পথে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম ও তাঁর সহকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সৈয়দপুরের ইকু হেরিটেজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। প্রার্থী জানান, তাঁর গাড়িবহরে ৪০–৫০ জন যুবক হামলা চালিয়ে একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন এবং জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মারধর করেছেন। এতে ১০–১২ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় প্রার্থীর লাইসেন্সধারী গানম্যানও আক্রান্ত হয়েছেন। সিদ্দিকুল আলম লিখিত বক্তব্যে জানান, এলাকার বাসিন্দাদের সহায়তায় তারা পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পান। হামলার ঘটনায় রোববার রাতেই কিশোরগঞ্জ থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, “আমাদের কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। এটি অপপ্রচার।”
বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমীতে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী পরিকল্পনা ও সামাজিক সহায়তা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান এ্যাডভাইজার জিয়া উদ্দির হায়দার, গ্রাস রুট নেটওয়ার্কের কো-অর্ডিনেটর সাইমুন পারভেজ এবং রিসার্চ এন্ড মনিটরিং সেলের সদস্য অধ্যাপক আবদুল আল মামুন। তারা বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড, প্রান্তিক পরিবারের নারীর নামে ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র ও সহায়তা কার্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিকল্পনার দিক তুলে ধরেন। এসময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিএম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।