বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “জামায়াত সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘুতে বিশ্বাস করে না, আমরা ১৮ কোটি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আগামীর দেশ গড়তে চাই। কোন দল বা ব্যক্তি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে পারবে না, অথচ বিরোধীপক্ষ জনগনকে বিভ্রান্ত করছে।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে নীলফামারী-০৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুত্তাকিমের সমর্থনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আজহারুল ইসলাম বলেন, “ক্ষমতায় এলে সবার আগে দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। দেশের অর্ধেক কাজ তখনই হবে। ১৭ বছর পালিয়ে থাকা কোনো নেতা জনগনের বন্ধু নয়।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াত ফ্যামিলি কার্ড বা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে না, আমরা দেশে ইনসাফ কায়েম করতে চাই।”
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত ও জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম বলেন,
“যুবকরা ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদ রোধের জন্য জনগণ ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না।”
সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলের মাধ্যমে যোগ দেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার যশোরে নির্বাচনী জনসভায় অভিযোগ করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের নারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের ঘরে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়।তিনি বলেন, ওই দলের নেতারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং নির্বাচনের আগে মিথ্যা তথ্য ও অসৎ প্রস্তাব দিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ভোট গণনার প্রক্রিয়া ঘিরে কোনো সুযোগ নেওয়া হলে তা প্রতিহত করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকারের মতো ভোটের অধিকার হরণ ও কৌশলী প্রতারণার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠিত হলে যশোরের উলাসী খালসহ খাল-বিল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি ও ফুল রপ্তানি সম্প্রসারণ, ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্র সম্মান প্রদান এবং নারীদের শিক্ষার প্রসারসহ সকল সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা হবে। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং ভোটের দিন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করে ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ধানের শীষ’কে জয়যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া তিনি নারীদের ক্ষমতায়ন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রতিশ্রুতি দেন, যা খালেদা জিয়ার সরকারী শিক্ষানীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে যতই দিন এগোচ্ছে, পঞ্চগড়ের দুটি আসনে নির্বাচনী প্রচারণার উত্তাপ তত বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এলাকায় সমর্থক ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কাক ডাকা ভোট, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও বাড়ি-বাড়ি ভোট প্রার্থনা চালাচ্ছেন। পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বোদা সদর ইউনিয়নের বালাভীড় গ্রামে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত করেন। এতে শতশত নারী-পুরুষ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। তিনি একাধিক স্থানে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। প্রার্থীর সরাসরি সংযোগ ও এলাকায় উপস্থিতি তার নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী-৪ আসনে ভোটের উত্তাপ তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা এবার পরস্পর মুখোমুখি, ফলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সময় এই আসনে জাতীয় পার্টির আঞ্চলিক ভোট ব্যাংক তৈরি হয়েছিল। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙে দেন। বর্তমানে জামায়াত তাদের ভোটার আস্থা কাজে লাগিয়ে নতুন ভোট ব্যাংক তৈরি করতে মরিয়া। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দলটির সমীকরণ আরও জটিল করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটের চূড়ান্ত লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে। ভোটারদের দৃষ্টিকোণ এবং প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করবে কে জয়ী হবে। জাতীয় পার্টি আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য সাবেক এমপি ও শিল্পপতিকে প্রার্থী করেছে। মাঠে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্যমী করেছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। তবে কিছু প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় দলের কিছু ভোটার অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। নীলফামারী-৪ আসনটি কিশোরগঞ্জের ৯টি ইউনিয়ন এবং সৈয়দপুরের ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন পেয়ে প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ধানের শীষে অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, জামায়াত দাঁড়িপাল্লায় হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, জাতীয় পার্টি লাঙলে সিদ্দিকুল আলম প্রার্থী। এছাড়া হাতপাখা, ফুটবল, মোটরসাইকেল, ঘোড়া, কাঁচি, কাঁঠাল প্রতীকের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।