আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়।
‘জনতার ইশতেহার’-এ ২৬টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে,
১. স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গঠন।
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের প্রাধান্য দেওয়া।
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
৫. আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ দেশ গঠন।
৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।
৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।
৮. প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প ও উৎপাদন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
৯. ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি।
১০. সমানুপাতিক (পিআর) নির্বাচন ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।
১১. রাষ্ট্রীয় খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যার বিচারের মাধ্যমে মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ ও শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পুনর্বাসন।
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়িয়ে বিপ্লবী কৃষি ব্যবস্থা গঠন।
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়ন।
১৫. ক্ষুদ্র-মাঝারি ও ভারী শিল্প বিকাশ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান উন্নয়ন এবং নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ ও দেশ গঠনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা।
১৯. সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
২০. শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান।
২১. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং মৌলিক চাহিদা পূর্ণ করা।
২২. যাতায়াতব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা।
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা।
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ ও বিচার-সংস্কার অব্যাহত রাখা।
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে নিরাপদ কর্মজীবন নিশ্চিত করা।
২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
ইশতেহারের মাধ্যমে দলটি দেশের জন্য সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা, আধুনিক অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচনকালীন সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রার্থীদের সমান সুযোগ ও ভোটাধিকার সংরক্ষণের প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করেছে।
জামায়াতের এই নির্বাচনী ইশতেহার দেশ পুনর্গঠন, জনগণের কল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সুরক্ষিত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
সাতক্ষীরার-৩ (কালিগঞ্জ ও আশাশুনি) আসনের বিএনপির ২৮ নেতা-কর্মীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের বল প্রতিকের নির্বাচনী প্রচারণায় জড়িত ছিলেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে কালিগঞ্জের ১৬ ও আশাশুনির ১২ জন নেতা-কর্মীর বহিষ্কারাদেশ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনের সুপারিশ এবং জেলা আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশের অনুমোদনে। বিএনপির সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের মতোই দেশের কিছু গুপ্ত সংগঠনের নেতারা নতুন জালিম হয়ে উঠেছে, যাদের কাছে মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের বেলস পার্কে নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মাধ্যমে। কিন্তু কিছু গুপ্ত নেতা জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, নারীদের অসম্মান করছে। তারা ক্ষমতায় এলে জনগণের জীবন দুর্বিষহ হবে।” তারেক বলেন, এই গুপ্ত নেতারা আগেও স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করেছে। তারা ৭১, ৮৬, ৯৬ ও গত ১৫ বছরে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত ছিল। “যারা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই,” যোগ করেন তিনি। বরিশালের নদী ভাঙনসহ স্থানীয় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি জিতলে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।” চেয়ারপারসন আরও বলেন, নারী-পুরুষ একত্রে কাজ করতে হবে, তা না হলে উন্নত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। গুপ্ত দলগুলোর বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও আচরণ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভালুকা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার প্রকাশ করেন। ‘আগামী ভালুকার ইশতেহার’ শীর্ষক ঘোষণায় তিনি ১২ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরেন। শাপলা কুঁড়ি প্রতীকের প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি জনপ্রতিনিধি নয়, জনগণের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে চান। তার ইশতেহার ভালুকার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভালুকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে ইশতেহারে অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের ১২ দফার মধ্যে রয়েছে— রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও বনায়ন, প্রতিটি ইউনিয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১০০ শয্যার আধুনিক উপজেলা হাসপাতাল ও মোবাইল ক্লিনিক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, নারী ক্ষমতায়নে আইটি প্রশিক্ষণ, স্মার্ট কৃষি, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, মাতৃস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ ও সড়ক উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং মাসিক গণশুনানির মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিকে জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করতে হবে। নির্বাচিত হলে তিনি প্রতি মাসে জনগণের সামনে কাজের হিসাব তুলে ধরবেন। সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।