শিরোনাম
সংবাদ প্রকাশের জেরে বাগেরহাটে ৬ সাংবাদিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা
সংবাদ প্রকাশের জেরে বাগেরহাটে ৬ সাংবাদিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

বাগেরহাটে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয়দানকারী মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ৬ সাংবাদিকসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। মামলায় দুই সাংবাদিকের স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শরণখোলা এলাকার সোহাগ শেখ ও হেলাল তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সাংবাদিকরা জানান, মাহমুদুল হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত পরিচয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তিনি ও তার সহযোগীরা তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সাংবাদিকদের দাবি, এর আগে তাদের একজন মাহমুদুল হাসান ও তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সেই ঘটনারই প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের হয়রানির উদ্দেশ্যে এ চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

এদিকে মামলায় দুই নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তাদের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নারীদের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেই তাদের আসামি করা হয়েছে।

নারী অধিকারকর্মীরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যে বা পারিবারিক সম্পর্কের কারণে কাউকে মামলায় জড়ানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সংবাদকর্মীদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ সেন্সরশিপ’-এর প্রবণতা বাড়াতে পারে।

তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত ও তদন্ত সংস্থার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে উভয় পক্ষ। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হলেন রামপালের কৃতি সন্তান শেখ রুহুল আমীন
বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হলেন রামপালের কৃতি সন্তান শেখ রুহুল আমীন

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কৃতি সন্তান, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শেখ রুহুল আমীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তিনি পরিচালক পদে নির্বাচিত হন।

শেখ রুহুল আমীন রামপাল উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাবেক শিক্ষক আলহাজ মোহাম্মদ আলীর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি রামপালসহ বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তিনি একজন পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত।

ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে নির্বাচিত হওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে এবং সংগঠনের কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন রামপাল উপজেলা উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক সাবেক জেলা জজ শেখ জালাল উদ্দিন, সিনিয়র আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সুলতান আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আ. হান্নান, সাবেক প্রধান শিক্ষক শেখ আ. মান্নান, মেজর (অব.) মল্লিক মনিরুজ্জামান এবং সদস্য সচিব এম এ সবুর রানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ফকিরহাটে প্রান্তিক জেলেদের মাঝে ৮০টি ছাগল, খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ
ফকিরহাটে প্রান্তিক জেলেদের মাঝে ৮০টি ছাগল, খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে নিবন্ধিত মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০ জন প্রান্তিক জেলের মাঝে ৮০টি ছাগল, ছাগলের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) উপজেলা অডিটোরিয়াম চত্বরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতিজন জেলেকে ৪টি করে ছাগল দেওয়া হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

বক্তারা বলেন, মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নে সরকার এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

উপকারভোগীরা জানান, ছাগল পালন তাদের পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং স্বাবলম্বী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলেদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

ফকিরহাটে ৪ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগে কথিত চাচা আটক
ফকিরহাটে ৪ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগে কথিত চাচা আটক

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া মোজাহিদ শেখ (৪০) একই গ্রামের মৃত গাউস শেখের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশ। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে অভিযুক্তকে ফকিরহাট মডেল থানা থেকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি গণশিক্ষা বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই শিশুটিকে বিভিন্ন খাবার কিনে দিতেন এবং স্নেহ করতেন। শিশুটিও তাকে ‘চাচা’ বলে ডাকত।

গত ৩ জুন দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করানোর জন্য নিয়ে যান। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করে। শিশুটি তার মায়ের কাছে অসুস্থতার কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের পিতা একজন দরিদ্র দিনমজুর। সে কাজের সন্ধানে বাইরে থাকায় ও মা ঘরের কাজ্যে ব্যস্ত থাকার সুবাদে অভিযুক্ত মোজাহিদ শেখ শিশুটিকে প্রায়ই ঘুরতে নিয়ে যেত। এর আগে শিশুটির কিছু কথাবার্তায় অভিযুক্তের বিষয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। সর্বশেষ শিশুটির অসুস্থতার পর পরিবারের সদস্যরা ধর্ষনের বিষয়ে বুঝতে পারেন।

পরে বৃহস্পতিবার রাতে বৈলতলী গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে ফকিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী শিশুর পিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ফকিরহাটে তালের বাম্পার ফলন
ফকিরহাটে তালের বাম্পার ফলন

বর্ষা মৌসুমে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলাজুড়ে এবার তালের বাম্পার ফলন হয়েছে। রাস্তার ধারে, খেতের আইলে ও বসতভিটার তালগাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাটে ১০ হাজার ৫০৪টি ফলন্ত তালগাছ থেকে এ বছর প্রায় ১১ লাখ তাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষক পর্যায়ে প্রতি পিস তাল গড়ে ১ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার সংযোজন হবে।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ট্রাকভর্তি তাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। কৃষকরা জানান, কম খরচে ও স্বাভাবিকভাবে ফলন হওয়ায় তাল চাষ ও সংরক্ষণে আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাল পুষ্টিকর ফল হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তালগাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

ফকিরহাটে তালের বাম্পার ফলন
ফকিরহাটে তালের বাম্পার ফলন

বর্ষা মৌসুমে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলাজুড়ে এবার তালের বাম্পার ফলন হয়েছে। রাস্তার ধারে, খেতের আইলে ও বসতভিটার তালগাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাটে ১০ হাজার ৫০৪টি ফলন্ত তালগাছ থেকে এ বছর প্রায় ১১ লাখ তাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষক পর্যায়ে প্রতি পিস তাল গড়ে ১ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার সংযোজন হবে।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ট্রাকভর্তি তাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। কৃষকরা জানান, কম খরচে ও স্বাভাবিকভাবে ফলন হওয়ায় তাল চাষ ও সংরক্ষণে আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাল পুষ্টিকর ফল হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তালগাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

বাগেরহাটে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩
বাগেরহাটে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩

বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের চুলকাঠি এলাকার ভট্ট বালিয়াঘাটায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনাগামী একটি মোটরসাইকেলে তিন আরোহী চুলকাঠি ভট্ট বালিয়াঘাটা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী একটি ট্রাক ওভারটেকিংয়ের সময় মোটরসাইকেলটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে পড়ে।

ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক আব্দুল কাদের নিহত হন। গুরুতর আহত অপর দুই আরোহীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বাগেরহাটে কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রস্তুত প্রায় ৮৫ হাজার পশু
বাগেরহাটে কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রস্তুত প্রায় ৮৫ হাজার পশু

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন খামারিরা। জেলার ৯টি উপজেলায় এবার মোট ৮৪ হাজার ৯৬৭টি কোরবানিযোগ্য গরু, ছাগল ও মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭৭ হাজার ৮৮৯টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু জেলার বাইরে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে ক্রেতা কম থাকায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খামারিদের অভিযোগ, খড়, ভুসি ও খৈলের দাম বাড়ায় পশু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়েছে।

রামপাল উপজেলার কামাল এগ্রো ফার্মের ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ফার্মে প্রায় ৫০টি গরু রয়েছে। তবে পশুখাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে খামার পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই বাড়িতে সনাতন পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় এবার বড় গরুর চেয়ে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। তাই অধিকাংশ খামারে মাঝারি গরু লালন-পালনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রামপালের ঐতিহ্যবাহী ফয়লাহাটেও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি পশুর বাজার। অনেক ক্রেতা শেষ সময়ে হাটে গিয়ে পশু কেনার পরিকল্পনা করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাহেব আলী জানান, পশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার না করতে খামারিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।