শিরোনাম
বাগেরহাটে কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রস্তুত প্রায় ৮৫ হাজার পশু
বাগেরহাটে কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রস্তুত প্রায় ৮৫ হাজার পশু

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন খামারিরা। জেলার ৯টি উপজেলায় এবার মোট ৮৪ হাজার ৯৬৭টি কোরবানিযোগ্য গরু, ছাগল ও মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭৭ হাজার ৮৮৯টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু জেলার বাইরে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে ক্রেতা কম থাকায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খামারিদের অভিযোগ, খড়, ভুসি ও খৈলের দাম বাড়ায় পশু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়েছে।

রামপাল উপজেলার কামাল এগ্রো ফার্মের ম্যানেজার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ফার্মে প্রায় ৫০টি গরু রয়েছে। তবে পশুখাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে খামার পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই বাড়িতে সনাতন পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় এবার বড় গরুর চেয়ে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। তাই অধিকাংশ খামারে মাঝারি গরু লালন-পালনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রামপালের ঐতিহ্যবাহী ফয়লাহাটেও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি পশুর বাজার। অনেক ক্রেতা শেষ সময়ে হাটে গিয়ে পশু কেনার পরিকল্পনা করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাহেব আলী জানান, পশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার না করতে খামারিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।