সোনার বাজারে দর বেড়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন, ভরিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছাড়াল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকায়। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রকাশিত নতুন মূল্যে ২১ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রুপার দামও সমন্বয় করে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং সংগঠন নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে।
বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রকৌশলী রমানাথ পূজারী। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবেক এমডি প্রকৌশলী সঙ্গীতা কৌশিকের স্থলভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৪ ফ্রেব্রুয়ারি) তার যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ডিজিএম (এইচআর-পিআর) আনোয়ারুল আজিম।রামপাল তাপ বিদ্যুকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, এই পদে যোগদানের আগে তিনি রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্ল্যান্ট পরিচালনা, প্ল্যান্ট নির্ভরযোগ্যতা, প্ল্যান্টের দক্ষতা উন্নত করাসহ পরিবেশগত নিয়মাবলী পরিপালনের সম্পৃক্ত ছিলেন। এই সময়ে তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং প্রকল্পের ভিতরে টাউনশিপ উন্নয়নমূলক কাজও পরিচালনা করেছেন। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ডিজিএম (এইচআর-পিআর) আনোয়ারুল আজিম বলেন, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রমানাথ পূজারী ১৯৬৮ সালে ভারতের ওড়িশায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাড়ি সেখানেই। তিনি ভুবনেশ্বরের কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে বিই (মেকানিক্যাল) ডিগ্রি ও গুরগাঁওয়ের এমডিআই থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ভারতের আহমেদাবাদ থেকে আইআইএম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন এবং ১৯৮৯ সালে ভারতের এনটিপিসিতে যোগদান করেন। ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের ২৯৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এনটিপিসির সিপাত পাওয়ার স্টেশনের প্রধানসহ বিদ্যুৎখাতে তার প্রায় ৩৬ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত, দুই সন্তানের জনক।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামে পুনরায় সমন্বয় আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে এ মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বাজুসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর) স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী—২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি সংযোজিত হবে। গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। এদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাজারে সোনার দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে আউন্সপ্রতি দাম ৫,০৪১.৮০ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দামের তুলনায় ২.৩৩ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আউন্সপ্রতি ৫,০০০ ডলার সোনার জন্য একটি ‘মানসিক সীমানা’ হিসেবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক বাজারের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন সোনার দামের দ্রুত ওঠা-নামার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করে সোনার দাম ভবিষ্যতে ৬,০০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেটের বিশ্লেষকরা অনুমান করেছেন, চলতি বছর সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭,১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
প্রায় পাতাশূন্য ডালে থোকায় থোকায় সাদা ও হালকা হলুদ রঙের ফুল ফুটে প্রকৃতিতে ভিন্নমাত্রার নান্দনিকতা যোগ করেছে সজনে। জেলার পরিত্যক্ত ফাঁকা জায়গা ও বাড়ির আনাচে-কানাচে মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে বসন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে এই ফুল। বসন্তের আগমনে যখন প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে, তখন সজনে গাছও ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ছোট ছোট সাদা-হালকা হলুদ ফুলের চাঁদরে যেন ঢেকে গেছে চারদিক। গ্রাম থেকে শহরের পথঘাট, বাড়ির আঙিনা, ক্ষেতের আইল—সবখানেই এখন সজনে ফুলের শুভ্র উপস্থিতি। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কৃষিতে নীরব এক বিপ্লব—সজনের বাণিজ্যিক চাষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেলায় দ্রুত বেড়েছে সজনে আবাদ। কম খরচে বেশি লাভ, অনাবাদি জমিতে সহজে ফলন এবং বাজারে স্থায়ী চাহিদার কারণে কৃষকদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য অর্থকরী ফসল। থোকায় থোকায় ফুটে থাকা এই ফুল শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। সজনের ফুল ও পাতা দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন সুস্বাদু ভর্তা ও রান্না। পুষ্টিবিদদের মতে, বসন্তকালে সজনের ফুল ও পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একসময় যেখানে পতিত জমি পড়ে থাকত, সেখানে এখন সারি সারি সজনে গাছ। রাস্তার ধারে, বাড়ির সীমানায় কিংবা খালের পাড়ের জমিতেও দেখা মিলছে সবুজ ছায়া। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সজনে চাষে বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। একবার ডাল রোপণ করলে পরের বছর থেকেই ফলন পাওয়া যায়। সেচ, সার কিংবা কীটনাশকের ব্যবহারও তুলনামূলক কম। নীলফামারী সদর উপজেলার সিটকালিকাপুর গ্রামের কৃষক মোবারক আলী জানান, ধান বা আলুর মতো ফসলে খরচ ও ঝুঁকি বেশি থাকলেও সজনে চাষ প্রায় ঝামেলামুক্ত। অবহেলার মধ্যেও ভালো ফলন পাওয়া যায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলার জলবায়ু ও মাটি সজনে চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে সজনে হতে পারে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য এবং রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় ফসল।
সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে এখন সরিষার হলুদে ভরে উঠেছে মাঠ। দোল খাওয়া সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে ২৭ হাজার ২০২ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। সরিষার পাশাপাশি মধু আহরণেও সাফল্য এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮ টন মধু উৎপাদনের, তবে ইতোমধ্যে প্রায় ৬১ টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মৌসুম শেষে এই উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় টরি-৭, বারি-৯, ১৪, ১৭, ১৮, ২০ এবং বিনা-৯ ও ১১ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। এসব ক্ষেতে মৌচাষিরা মৌবাক্স স্থাপন করে মৌমাছি পালন করছেন। মৌচাষ থেকে মোট ৭৫ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ২৫৫ হেক্টরে, তালায় ১ হাজার ৩৬৫, কলারোয়ায় ৭ হাজার ৬৫৫, দেবহাটায় ১ হাজার ৯০৫, কালিগঞ্জে ১ হাজার ২৪০, আশাশুনিতে ৯৮০ এবং শ্যামনগরে ৭৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় ১৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ টন থাকলেও ইতোমধ্যে তা অতিক্রম করেছে। এটি জেলার জন্য একটি বড় সাফল্য।”
বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় যে চাষাবাদ ছিল কেবল কৃষকের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক নির্ভরশীলতার উপর, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের প্রসারে দেশের গ্রামীণ চাষাবাদে এক বিপ্লব ঘটছে। পরিবর্তন আসছে কৃষকের চাষের ধরণ, উৎপাদনের পরিমাণ এবং খরচের পরিমিত ব্যবস্থাপনায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত মানের পাওয়ার টিলার, স্মার্ট স্প্রেয়ার, স্বয়ংক্রিয় পানি সেচ যন্ত্র, ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, স্যাটেলাইট নির্ভর আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের স্মার্ট কৃষি যন্ত্র এখন অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচছে, উৎপাদনও হচ্ছে আরও পরিকল্পিতভাবে। স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকার পাচ্ছেন তরুণ কৃষকরা, যারা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং স্মার্টফোন বা অ্যাপ ব্যবহার করে চাষাবাদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাটি পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র, মোবাইল অ্যাপ থেকে আবহাওয়ার আপডেট, এমনকি কৃষি পরামর্শও মিলছে এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ফসল উৎপাদনের আগে থেকেই তারা জানেন কোন ফসল কবে লাগাতে হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, আর কখন ফসল ঘরে তুললে সর্বোচ্চ লাভ মিলবে। সবুজ প্রযুক্তির আরও একটি বড় দিক হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন অনেকেই জৈব সার ও বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নিরাপদ হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকছে দীর্ঘমেয়াদে। এ ছাড়া সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিও অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা খরার সময়েও কৃষকদের সহায়তা করছে। তবে এই পরিবর্তনের পথ এখনো সহজ নয়। অনেক কৃষক এখনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের দক্ষতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। স্মার্ট যন্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন সমবায় ভিত্তিক ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। এই বিপ্লব সফল করতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে কৃষি প্রযুক্তি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, কৃষকদের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিলে কৃষি আরও লাভজনক ও টেকসই হবে। স্মার্ট কৃষি শুধু কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ প্রযুক্তির এই বিপ্লবই হতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ ও আধুনিক কৃষির ভিত্তি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জায়নবাদী মতাদর্শকে মুসলিম বিশ্বে অস্থিতিশীলতার উৎস এবং “মানবতার জন্য হুমকি” হিসেবে অভিহিত করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত “চাপিয়ে দেওয়া” হয়েছে এবং এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি পাকিস্তানের নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ইসলামি বিশ্বের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন সংঘাতের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জায়নবাদী রাষ্ট্রনীতির ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে বহিরাগত হুমকির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, করাচি, স্কার্দু ও ইসলামাবাদে সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের ঘটনায় একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেট সংলগ্ন বিক্ষোভ চলাকালে গুলিবর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কার গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে উত্তর ইসরায়েলের রামাত দাভিদ বিমানঘাঁটিতে একাধিক ড্রোন ব্যবহার করে রাডার ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। সংগঠনটি এই হামলাকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার জবাব হিসেবে উপস্থাপন করেছে। একই সময়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে ‘বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার ফলে প্রধান কমান্ড ভবন এবং জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লেগেছে। বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের উপর চালানো সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমবার জেরুজালেমের পশ্চিমে বেইম শেমেস শহরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন। এই সময় তিনি বলেন, ‘অপারেশন রোরিং লায়নের তৃতীয় দিন শুরু হয়েছে, যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে পরিচালনা করছে। এর লক্ষ্য ইসরায়েল ও বিশ্বের নিরাপত্তার ওপর হুমকি প্রতিহত করা।’ নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘ইরানের স্বৈরশাসকরা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। আমরা তাদের প্রতিহত করি যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকে।’ তিনি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেন, ‘তারা শুধু ইসরায়েল বা আমেরিকাকেই নয়, ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।’
হামাস ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসী ও নিন্দনীয় হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, খামেনি ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার ও প্রতিরোধ আন্দোলনের পক্ষে ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, এ হামলার পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ও ইসরায়েলকে বহন করতে হবে এবং এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত। বিবৃতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি রাজনৈতিক ও আইনি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘যথোপযুক্ত প্রতিক্রিয়া’ জানানো হবে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা আইনগত ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং চীনা অতিথিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সকালের অনুষ্ঠানে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং অন্তরীপ শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এতে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এই অংশটি ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিকেলের অনুষ্ঠান পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়, যা দিবসটির তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে। আলোচনা সভায় ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ বেঙ্গল স্টাডিজের সভাপতি প্রফেসর দং ইয়ুচেন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু গুয়াংয়ু বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেন। প্রফেসর দং ইয়ুচেন বলেন, "ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বের ভাষাগত বৈচিত্র্যের সংরক্ষণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।" ইয়ু গুয়াংয়ু যোগ করেন, "চীনে বাংলা ভাষার প্রসারে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, এবং এই দিবসটি আমাদের অনুপ্রাণিত করে।" রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, "১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমি আহ্বান জানাই, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করুন।" অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর ইফতার আয়োজন এবং আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানটি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগরূক করেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী ভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিং সেটে সহশিল্পীর প্রতি অসদাচরণ ও শারীরিক আঘাতের অভিযোগ উঠেছে ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা–এর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ দাবি করেছেন, দৃশ্য ধারণ চলাকালে স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি রক্তাক্ত হন। জানা যায়, পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু–র নির্মাণাধীন একটি নাটকের শুটিং চলাকালে গত ২ মার্চ এ ঘটনা ঘটে। নাটকে আরও অভিনয় করছেন শহিদুজ্জামান সেলিমসহ একাধিক শিল্পী। অভিযোগ অনুযায়ী, দৃশ্য ধারণের সময় তিশা ইচ্ছাকৃতভাবে খামচি দিয়ে অথৈয়ের হাতে আঘাত করেন। উপস্থিত সহকর্মীরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের সূত্রপাত একটি ব্যক্তিগত উপহার প্রদানকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া অতীতে পেশাগত বিষয়ে ফোনে হুমকির অভিযোগও উত্থাপন করেছেন সামিয়া অথৈ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তানজিন তিশার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে পেশাগত আচরণবিধি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শিল্পীদের পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী পক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার চাইবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বিস্তারিত আসছে...
দীর্ঘদিন ধরে একটি চলচ্চিত্রের কাজ ঝুলে থাকায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন দক্ষিণী তারকা ধানুশ। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেনান্ডাল ফিল্মস অভিনেতার কাছে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া–র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে ‘নান রুদ্রন’ শিরোনামের একটি সিনেমায় অভিনয় ও পরিচালনার জন্য ধানুশ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও এখনো ছবিটির শুটিং শুরু হয়নি। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পে একাধিক সময়সূচি পরিবর্তনে প্রযোজনা সংস্থা সম্মত হলেও দীর্ঘ বিলম্বে তাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, চুক্তিভুক্ত ছবির কাজ শেষ না করেই ধানুশ অন্য চলচ্চিত্রে সময় দেওয়ায় প্রকল্পটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে প্রাথমিক বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও নোটিশে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ধানুশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির সমর্থিত শিল্পী রিনা খান সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের মধ্যে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন বাধা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও তিনি নিজেকে দলের পাশে রেখেছেন। বিটিভির নিবন্ধিত শিল্পী রিনা খান জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার সুযোগ থাকলে তা দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনার জন্য মাঠে নেমে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন।
শ্রীলঙ্কায় শুটিংয়ের শেষ পর্যায়ে থাকা চলচ্চিত্র ‘রাক্ষস’ ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রধান দুই অভিনয়শিল্পী সিয়াম আহমেদ ও কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জির একটি দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি রোমান্টিক ছবিকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের আগ্রহ বাড়লেও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে পুরোপুরি চলচ্চিত্রের অংশ হিসেবেই দেখছেন। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানিয়েছেন, আলোচিত ছবিটি সিনেমার একটি গানের দৃশ্যের অংশ। শুটিংয়ের সুবাদে সিয়াম ও সুস্মিতার মধ্যে পেশাগত বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে, যা পর্দায় স্বাভাবিকভাবেই ফুটে উঠছে। তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং গল্পের প্রয়োজনে নির্মিত দৃশ্য। সিয়াম আহমেদও বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, সিনেমার মূল লুক এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভক্তদের আগ্রহের কারণে গানের দৃশ্যের একটি ঝলক শেয়ার করা হয়েছে। সামনে পোস্টার, টিজার ও ট্রেলারে আরও চমক থাকবে বলেও জানান তিনি। ‘রাক্ষস’ ছবির মাধ্যমে প্রথমবার বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করছেন সুস্মিতা চ্যাটার্জি। ছবিতে তাকে আধুনিক ও শিক্ষিত পরিবারের এক নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। পরিচালক জানান, সিনেমাটির গল্প অন্ধকার জগতকে কেন্দ্র করে, যেখানে ভায়োলেন্স ও রাফ ন্যারেটিভের উপস্থিতি থাকবে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ছবির প্রায় ৮০ শতাংশ শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিট আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবে এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দেশের অংশের শুটিং শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাবা তারেক রহমানকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি লিখেছেন, আমার আব্বু হলেন আমার দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি এ কথা লেখেন। ছোটোবেলায় আমাদের সকলের মনেই বিশ্বাস জন্মে যে, আমাদের বাবারা সবকিছুতেই পারদর্শী। অনেক সময় তাঁরাই হয়ে ওঠেন আমাদের জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে বড় আদর্শ। পোস্টে তিনি লেখেন, আমার আব্বু হলেন আমার দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ। আমার জীবনে তিনিই হলেন সেই একজন ব্যাক্তি- যার ওপর আমি নিশ্চিন্তে যেকোনো পরিস্থিতিতে ভরসা করতে পারি। বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও লেখেন, আমি খুবই আনন্দিত যে, সমগ্র বাংলাদেশ অবশেষে তাঁর এই অনন্য গুণাবলিগুলো প্রত্যক্ষ করবে। তাঁর মধ্যে থাকা অসাধারণ গুণাবলিগুলোই তাঁকে এই দেশ ও জনগণের একজন সত্যিকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। কোন ধরনের অনিয়ম বা ঘুষ-বাণিজ্যের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং বেতন বিলম্বের বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ, স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এআই অ্যাপের সহায়তায় উত্তর খোঁজার অভিযোগে এক ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ‘সি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষার্থীর নাম দিব্য জ্যোতি সাহা। তার রোল নম্বর ৩১১০০০৫২। তিনি ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা হলেও স্থায়ী নিবাস খুলনায়। তার বাবা ড. সাহা চঞ্চল কুমার জনতা ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এবং মা অল্পনা সাহা গৃহিণী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। পরে কাছে গিয়ে দেখা যায়, তিনি মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ‘ডিপসিক’ নামের একটি এআই অ্যাপ ব্যবহার করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন। পরীক্ষা শেষে তাকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর গিয়াসউদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট আরও প্রকট। অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় একজন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে করে পাঠদানের মান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহও কমে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যালয়েই শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি বিদ্যালয়ে তিন থেকে চারজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়, কোনো কোনো স্কুলে মাত্র একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষককে একসঙ্গে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান করতে হয়, যা কোনোভাবেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। একজন শিক্ষক যখন একই সময় একাধিক শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়ান, তখন স্বাভাবিকভাবেই কোনো শ্রেণির উপর পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ হয়। এইভাবে ধাপে ধাপে শিখনের ঘাটতি তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভবিষ্যত শিক্ষাজীবনেও। শুধু পাঠদানের ক্ষেত্রেই নয়, একজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, মিডডে মিল, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হিসাব রাখা, নানা রিপোর্ট প্রস্তুত করাসহ আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষক যতই আন্তরিক হোন না কেন, সীমিত জনবল ও অপ্রতুল সময়ের কারণে শিক্ষার মান উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরাও এই সংকটের কারণে দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে। একজন শিক্ষক একসঙ্গে দুই-তিনটি শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি সৃষ্টি হয় এবং তারা ধীরে ধীরে স্কুলে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে ঝরে পড়ার হারও বাড়ছে। সরকার শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সংকট কাটছে না। অনেক সময় নিয়োগপ্রাপ্তরাও দুর্গম এলাকায় যোগদান করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, ফলে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেই সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত ও কার্যকর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। বিশেষ করে দুর্গম ও গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থায়ী পদ সৃষ্টি, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রণোদনা প্রদান এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প শিক্ষা পদ্ধতিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে, যাতে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠ গ্রহণ করতে পারে। প্রাথমিক স্তরেই যদি শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন শিক্ষা না পায়, তবে তা পুরো শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এখনই সময় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যেন একজন শিক্ষককে আর একা একাধিক শ্রেণির ভার বইতে না হয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে পারে।
দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবার থেকে নজরদারির আওতায় আসছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পদ্ধতিতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় এক হাজার স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এই ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। ✅ কীভাবে কাজ করবে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি? ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রেকর্ড হবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইডি কার্ড স্ক্যান অথবা ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে। প্রতিদিন সকালের শুরুতে হাজিরা রেকর্ড হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং তা অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে। শিক্ষকরা মোবাইল অ্যাপ অথবা অনলাইন ড্যাশবোর্ড থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হাজিরার তথ্য দেখতে পারবেন। এর ফলে শিক্ষকের সময় বাঁচবে এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সহজে শনাক্ত করা যাবে। 🎯 উদ্দেশ্য কী এই পদক্ষেপের? এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— ✅ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা ✅ বিদ্যালয়ে সময়মতো উপস্থিতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা ✅ অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ✅ শৃঙ্খলা, মনোযোগ ও পাঠদানে স্বচ্ছতা আনা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, "ডিজিটাল হাজিরা শুধু উপস্থিতির হিসাব রাখার জন্য নয়, এটি শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করার একটি আধুনিক মাধ্যম।" 📊 পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক ফল প্রাথমিক পর্যায়ে চালু করা স্কুলগুলো থেকে ইতিমধ্যেই আসছে আশাব্যঞ্জক ফলাফল। হাজিরার হার বেড়েছে ৮৫% থেকে ৯৬% পর্যন্ত। ময়মনসিংহের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, "আগে অনেক শিক্ষার্থী বেলা ১১টায় এসে ক্লাসে ঢুকত, কিন্তু এখন সবাই ঠিক ৮টায় হাজির। অভিভাবকেরাও সময়মতো স্কুলে পাঠাতে সচেষ্ট হচ্ছেন।" 📱 অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিভাবক পর্যবেক্ষণ এই ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে একটি মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, যেখানে প্রতিদিনের হাজিরা, ফলাফল, পরীক্ষার সময়সূচি ও শিক্ষকের মন্তব্য অভিভাবকরা দেখতে পারবেন। একজন অভিভাবক বলেন, "আগে আমরা জানতাম না সন্তান স্কুলে যাচ্ছে কিনা। এখন প্রতিদিন সকালে এসএমএস পেয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারি।" 🏫 চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যদিও এই পদ্ধতি অত্যাধুনিক, তবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ইন্টারনেট সংযোগ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ—এই তিনটি ক্ষেত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার ইতোমধ্যে ৫০০০ বিদ্যালয়ে সফটওয়্যার ও প্রশিক্ষণ বিতরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। 📌 উপসংহার সরকারি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি শুধু উপস্থিতির হিসাব রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল শক্তিশালী চীনের কাছে ২-০ গোলে হারল, তবে দৃষ্টিকোণ প্রশংসনীয়। সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ দৃঢ় মনোভাব দেখিয়েছে। প্রথমার্ধে চীনের দুই গোল আসে শেষ মিনিটে, কিন্তু বাংলাদেশের মিডফিল্ড এবং রক্ষণভাগ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন আনা হয়, মিলি আক্তারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং নতুন খেলোয়াড়দের অভিষেক নজরকাড়া ছিল। গোল ব্যবধান বৃদ্ধি করতে না পারলেও বাংলাদেশ ফিটনেস ও লড়াকু মনোভাবের দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রদর্শন করেছে।
হোয়ান লাপোর্তার পদত্যাগের পর ফের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে এফসি বার্সেলোনা। ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন লাপোর্তা, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ভিক্টর ফন্ট। আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্লাবের ভবিষ্যৎ কাঠামো, ক্রীড়া দর্শন ও প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বার্সেলোনার দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও জাভি হার্নান্দেজের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জাভি প্রকাশ্যে ভিক্টর ফন্টের পক্ষে অবস্থান নিলেও, লিওনেল মেসি এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও স্পোর্তসহ একাধিক ইউরোপীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা এবং বর্তমানে ক্লাবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা না থাকায় মেসি এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন না। একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বা প্রকাশ্য সমর্থন দিতেও আগ্রহী নন। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সভাপতি লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। আবার ভিক্টর ফন্ট জয়ী হলে মেসির সঙ্গে যোগাযোগ করার ঘোষণা দিলেও, সে আহ্বানেও এখনো সাড়া দেননি আর্জেন্টাইন তারকা। বার্সেলোনার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেসি ক্লাবের আজীবন সদস্য হিসেবে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন, তবে ভোট না দেওয়াকে ক্লাবের প্রতি অনাগ্রহ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি দূর থেকেই ক্লাবের মঙ্গল কামনা করছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে মেসি সশরীরে ন্যু ক্যাম্পে এসে ভোট দিয়েছিলেন, যা তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলায় ব্যস্ত থাকায় এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতেই এবার নিরপেক্ষ থাকার পথ বেছে নিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার। ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায় ১৫ মার্চের নির্বাচনের, যেখানে নির্ধারিত হবে বার্সেলোনার আগামী দিনের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তের পেছনের ব্যাখ্যা প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ক্রিকেটের মাঠে রাজনীতির অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এই অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, “খেলার মাঠ রাজনীতিমুক্ত থাকা উচিত। এই নীতিগত অবস্থান থেকেই ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোকে সরকার নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ আমলে না নিয়ে আইসিসি দলটিকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। যদিও সিদ্ধান্তটি আগেই জানানো হয়েছিল, এর পেছনের যুক্তি এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরল পাকিস্তান সরকার। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা। সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত থাকলেও পাকিস্তান সরকার স্পষ্ট করেছে, সেই ম্যাচে দল মাঠে নামবে না। আইসিসি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পিসিবি নেতৃত্ব অতীতের মতো এবারও আইসিসির নীতিতে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তুলেছে এবং বাংলাদেশের প্রতি করা আচরণকে অন্যায্য বলে অভিহিত করেছে।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি নতুন বিতর্কে জড়াল। বিশ্ব ক্রিকেটারদের স্বতন্ত্র অধিকার ও অংশগ্রহণের শর্তাবলি নিয়ে ক্রিকেটার সংগঠন ডব্লিউসিএ আইসিসিকে কঠোর সমালোচনা করেছে। ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে, আইসিসি খেলোয়াড়দের কাছে পাঠানো নতুন শর্তাবলি ২০২৪ সালের চুক্তির সঙ্গে মিলছে না এবং এতে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নাম, ছবি ও তথ্য ব্যবহারের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষত যেসব খেলোয়াড় আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের ওপর একপক্ষীয় শর্ত চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে। আইসিসি পাল্টা দাবি করেছে, ২০২৪ সালের চুক্তিটি কেবল আটটি ক্রিকেট বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য, বাকিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে ডব্লিউসিএর মতে, চুক্তি সকল সদস্য খেলোয়াড়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এতে খেলোয়াড়রা গণমাধ্যমে উপস্থিতি, ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পূর্ণ অধিকার রাখতে পারবেন। ডব্লিউসিএ প্রধান নির্বাহী টম মোফাট বলেছেন, আইসিসির নতুন শর্তগুলো খেলোয়াড়দের অধিকার হরণ করছে এবং “বিশেষ করে নিম্নবেতনপ্রাপ্ত বা অপেশাদার খেলোয়াড়দের শোষণমূলক” পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংগঠন বিশ্বকাপ পণ্ড করতে চাইছে না, তবে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ মুহূর্তে আইসিসি এখনও ডব্লিউসিএর নোটিশের জবাব দেয়নি।
আফগানিস্তানে নারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বিধান সংযোজন করে নতুন ফৌজদারি আইন জারি করেছে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Independent–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে ‘শাস্তি’ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে ‘হাড় ভাঙা’ বা দৃশ্যমান জখমের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯০ পাতার নতুন দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। পশতু ভাষায় প্রণীত ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ (আদালতের ফৌজদারি বিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলি) ইতোমধ্যে দেশটির আদালতগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, স্বামী ‘অতিরিক্ত শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর হাড় ভাঙলে বা দৃশ্যমান জখম করলে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণের দায় সম্পূর্ণভাবে নির্যাতিত নারীর ওপর বর্তাবে। নির্যাতনের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে—নারীকে পূর্ণ হিজাব পরিহিত অবস্থায় জখম দেখাতে হবে এবং তার সঙ্গে স্বামী অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া স্বামীর অনুমতি ছাড়া বিবাহিত নারীর আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ সাজা তিন মাসের কারাদণ্ড। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন দণ্ডবিধিতে সমাজকে চার শ্রেণিতে—উলামা, আশরাফ, মধ্য ও নিম্ন শ্রেণি—বিভক্ত করা হয়েছে। একই অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা অপরাধের ধরন নয়, বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে। এই আইন জারির পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও শক্তি প্রদর্শন করল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার USS Theodore Roosevelt এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ সম্প্রতি বিতর্কিত এই অঞ্চলে প্রবেশ করে টহল মিশনে অংশ নেয়। পেন্টাগনের দাবি, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত ও নিয়মিত কার্যক্রম, যার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌপরিবহন স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে চীন এই পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে এবং তাদের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে তারা ‘প্রত্যুত্তর’ দিতে প্রস্তুত। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, যদিও আন্তর্জাতিক আইন ও ২০১৬ সালের হেগ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এই দাবি খারিজ হয়েছে। আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা শুধু চীনের জন্য নয়, বরং সমগ্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু নিজেরাই নয়, বরং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি ফিলিপাইনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল আকারের যৌথ সামরিক মহড়া, যেখানে উভয় দেশের নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড অংশগ্রহণ করে। এতে অংশ নেয় ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি ড্রোন। এই মহড়ার অংশ হিসেবে বিতর্কিত স্কারবোরো শোল এলাকার কাছাকাছিও কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যেটি চীন এবং ফিলিপাইন উভয় দেশের দাবির কেন্দ্রবিন্দু। এই যৌথ মহড়া চীনকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে এককভাবে নয় বরং মিত্রদের নিয়ে সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে। ফিলিপাইন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া—এই চার দেশকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীন এই মহড়াকে ‘সীমান্ত লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিজের ভূখণ্ড ও জলসীমার নিরাপত্তা রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনো প্রকার বাহ্যিক চাপ আমাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে না।” বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর বর্তমানে একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ ইস্যু হিসেবে দেখলেও চীন বিষয়টিকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের অবমাননা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এই দ্বন্দ্বের ফলে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. লি ঝাও বলেন, “দুই পক্ষের সেনাবাহিনী যখন এত ঘন ঘন এবং এত কাছাকাছি এলাকায় কার্যক্রম চালায়, তখন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কোন পক্ষ ভুলক্রমেও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে পুরো অঞ্চলটাই অস্থির হয়ে উঠতে পারে।” বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই উত্তেজনা শুধুই সামরিক নয়, বরং বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে। দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য হয়, ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে ইরান ও কাতার দুই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। যদিও তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কাতারের আমিরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমন দুঃখ প্রকাশ সাধারণত কূটনৈতিক মহলে খুব সচরাচর দেখা যায় না। তাহলে কী হয়েছিল? কী ঘটেছিল? ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েল চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইরানের একটি সামরিক ড্রোন ভুলবশত কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য অনেক দেশের মতো কাতারের পক্ষেও উদ্বেগজনক ছিল। যদিও ড্রোনটি কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি এবং দ্রুত ইরানের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে, তবুও কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন একটি গুরুতর কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। প্রেসিডেন্টের দুঃখ প্রকাশ ঘটনার পরদিন ইরানের প্রেসিডেন্ট একটি ফোনালাপে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন: “ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে অনিচ্ছাকৃত ও প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে ঘটেছে। ইরান কাতারের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ শ্রদ্ধা জানায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।” কাতারের প্রতিক্রিয়া কাতার ইরানের দুঃখ প্রকাশ গ্রহণ করলেও তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়— “আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন একটি গুরুতর বিষয়। যদিও বিষয়টি বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধান হয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।” এর রাজনৈতিক তাৎপর্য এই ঘটনাটি ছোট মনে হলেও এর কূটনৈতিক প্রভাব গভীর। এর মাধ্যমে বোঝা যায়: ইরান এখন কূটনৈতিকভাবে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে চাচ্ছে, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। কাতার তার আঞ্চলিক গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ করেছে—একটি ছোট দেশ হয়েও তারা তাদের সার্বভৌমত্বে আপসহীন। এটি মধ্যপ্রাচ্যের বড় দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসকেও সামনে এনেছে, যেখানে যেকোনো ছোট ঘটনা বড় উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। উপসংহার ইরানের প্রেসিডেন্টের কাতারের আমিরের কাছে দুঃখ প্রকাশ নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একদিকে যেমন ইরানের কূটনৈতিক পরিপক্বতার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণও তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এমন দায়িত্বশীল আচরণ আরও প্রয়োজন।
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি চূড়ান্তভাবে প্রার্থী হিসেবে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে মনোনয়ন দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই আসনটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ার পর শূন্য ছিল। বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেছেন, মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে এবং তা দলীয় প্রধান কার্যালয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ! চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ!’—যা প্রকাশের পরপরই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিক্রিয়া, মন্তব্য ও শেয়ার দেখা গেছে। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ শীর্ষক সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন। পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। দুই নেতার ধারাবাহিক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন ও সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পাড়ায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কেন তিনি এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তা নিয়ে এখনও রহস্য কাটেনি। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মেঘমল্লার বসু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা স্থিতিশীল। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই মর্মান্তিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, সে বিষয়ে তার সহকর্মী বা সংগঠন থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানানো হয়নি।
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের আধিপত্যের অবসান হয়েছে। এতে জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হলেও এখন আলোচনার কেন্দ্রে—নতুন মন্ত্রিসভায় মানিকগঞ্জ থেকে কেউ স্থান পাবেন কি না। ২০০৮ সালের আগে মানিকগঞ্জে চারটি সংসদীয় আসন থাকলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর তা কমে তিনটি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেলার সব আসন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ওই সময়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও পরে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা জেলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ায়। এর আগে বিএনপি সরকারের সময় মানিকগঞ্জ থেকে একাধিক মন্ত্রী ছিলেন। ফলে জেলাটি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেয়ে আসছে—যা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে। ২০০৮ সালের পর মানিকগঞ্জে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও নেতৃত্বে আসেন প্রয়াত হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা আফরোজা খানম রিতা। তিনি জেলা বিএনপির দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি নানামুখী চাপের মুখেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি মানিকগঞ্জের তিনটি আসনেই জয়ী হয়। এর মাধ্যমে দলটি জেলার ঐতিহ্যগত ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানিকগঞ্জে দীর্ঘদিন মন্ত্রী থাকার একটি রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে। বিএনপির একাংশ মনে করে, আফরোজা খানম রিতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা হবে ত্যাগের স্বীকৃতি। তবে মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। মানিকগঞ্জে বিএনপির নতুন যাত্রা শুরু হলেও এই অর্জন ধরে রাখা এবং উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব সেই প্রক্রিয়ায় কতটা ভূমিকা রাখবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।