দেশের স্বর্ণবাজারে দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর এবার বড় পতন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার রাতের সিদ্ধান্তে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবারের সমন্বয় অনুযায়ী, দেশের বাজারে ১১.৬৬৪ গ্রামের একটি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, যা একদিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে পতিত হয়েছে। এই মূল্য পরিবর্তন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে এবং স্বর্ণের বাজারে নতুন প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের স্বর্ণ ও রূপার বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি রূপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে; ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরে স্বর্ণের দাম দেশের বাজারে মোট ৫৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩১ বার বৃদ্ধি এবং ২২ বার হ্রাস করা হয়েছে। রূপার ক্ষেত্রে ৩২ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ বার বৃদ্ধি ও ১৪ বার হ্রাস।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারি প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে রাত ৮টার পর ঢাকার সকল দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হোটেল, ফার্মেসি ও জরুরি প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের দোকান এবং কাঁচাবাজার এই নির্দেশের বাইরে থাকবে। সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আলোচিত এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কে সর্বাধিক কার্যকর করা।
দেশীয় স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় আবারও দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস), যা ভোক্তাদের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বাজুসের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই দর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠনটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে এ সমন্বয় আনা হয়েছে। নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্বাভাবিক উত্থান স্থানীয় বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬৭৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম একাধিকবার রেকর্ড ভেঙেছে। বিশেষ করে জানুয়ারির শেষ দিকে একদিনে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতিতে, বাজার বিশ্লেষকরা স্বর্ণের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের সাহানুর ইসলাম শিক্ষকতার পাশাপাশি মধু চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করছেন। জলঢাকার বগুলাগাড়ী হুসাইনিয়া (রাঃ) কওমিয়া মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে স্বল্প বেতনে চার সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মধু চাষ শুরু করেন। এখন এই পেশা থেকেই বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে তার। সরিষা ক্ষেত, মিষ্টিকুমড়া ক্ষেত, লিচুবাগানসহ বিভিন্ন ফলবাগান ও ফসলের মাঠে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করেন সাহানুর। নিজ জেলা ছাড়াও ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তিনি মধু সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয় বাজার ও অনলাইনে তা বিক্রি করেন। বর্তমানে তার কাছে ১৫টি মৌবাক্স রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি এপিস মেলিফেরা এবং ৫টি এপিস সেরেনা প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। এপিস সেরেনা জাতের মধুর কেজি বাজারে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, আর এপিস মেলিফেরা প্রজাতির মধু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি লিচুবাগানে বসানো ১০টি মৌবাক্স থেকে হারভেস্টিং মেশিনে প্রায় ৭ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা। এটি লিচু ও মিষ্টিকুমড়া ফুলের সমন্বিত মধু। সাহানুর ইসলাম বলেন, “মধু চাষে খরচ খুব কম। মৌসুমে তেমন খরচ লাগে না। বর্ষাকালে মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছুটা চিনি দিতে হয়। তবে মৌমাছির সংখ্যা বাড়লে মধু উৎপাদনও বাড়ে।” তিনি আরও জানান, মৌমাছি শুধু মধুই দেয় না, পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও সবজির ফলনও বাড়ায়। তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিভিন্ন ফসলের জমিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্থানীয় মিষ্টিকুমড়া চাষি সহিদুল ইসলাম জানান, “মৌচাষের কারণে জমিতে পরাগায়ন ভালো হয়। গত বছর ৪০ শতক জমি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছি। এবার লক্ষাধিক টাকা লাভের আশা করছি।” এ বিষয়ে আবু মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলায় বর্তমানে ২৭ জন মৌচাষি রয়েছেন। মৌচাষের ফলে বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষে ফলন বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ খাতে আরও প্রণোদনা দেওয়া হলে উৎপাদন বাড়বে এবং অর্গানিক মধু রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে গম চাষে ইঁদুর দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫–২৬ মৌসুমে বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্লক-৩ এলাকায় বারি গম-৩৩ জাতের প্রজনন বীজ ৪.৮০ হেক্টর, বারি গম-৩০ এবং বারি গম-৩২ যথাক্রমে ৫.৫ হেক্টর জমিতে বপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইব্রিড ভুট্টা-২, বারি খই ভুট্টা-১ (০.৭৫ হেক্টর) ও বারি মিষ্টি ভুট্টা-১ (০.৮০ হেক্টর) চাষ করা হচ্ছে। দেবীগঞ্জ বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জানান, “লাইন বা সারিভিত্তিক নালাভিত্তিক চাষাবাদ বীজের অপচয় কমায়, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দেয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে। সঠিক জাত ও সময়ে বপন করলে কৃষকরা বেশি ফলন পাবেন। বারি গম-৩৩ জাতে প্রতি কেজিতে ৫০–৫৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ব্যবহার করা হয়, যা পুষ্টি বৃদ্ধিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক।” BWMRI-এর নতুন উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি বিএডিসি (BADC) মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেশের গম উৎপাদনে মানসম্মত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা গ্রামের কৃষক আজিজুল হাকীম শীতপ্রবাহ উপেক্ষা করে নিজের এক একর জমিতে কুইক স্টার বিটকপি চাষ করে বাম্পার ফলন তুলে নিয়েছেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের কৃষিজীবনে এটি তার অন্যতম সফল চাষ বলে জানাচ্ছেন তিনি। চাষি আজিজুল হাকীম জানান, তার ক্ষেতে কুইক স্টার এবং জিরো-৫ প্রজাতির বিটকপি চারা রোপণ করা হয়েছে। ৮৫ দিনের চাষে তিনি প্রায় ৫০০ মন বিটকপি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তবে ফলন অনুযায়ী তিনি আশা করছেন প্রায় ৫ লাখ টাকার লাভ করতে পারবেন। এ ফসল থেকে তিনি নিজের পরিবারে বৃদ্ধ মাতা, স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ সংসারের সব ব্যয় মিটিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করতে পারবেন। আজিজুল হাকীম বলেন, “পৈত্রিক জমিতে কুইক স্টার চাষ করে এত ভালো ফলন পেয়েছি, এটি আমার জন্য এক অনন্য আনন্দ। পরিশ্রমের মূল্য এই ফলন দেখিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষক শীতকালীন রবি শস্য ও সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।” উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম আলী আশরাফ জানান, “আজিজুল হাকীমের সফলতা পুরো ইউনিয়নের জন্য দৃষ্টান্ত। কৃষি দপ্তর নতুন নতুন ফসল উৎপাদন ও আধুনিক চাষপ্রণালীর প্রশিক্ষণ দিয়ে এমন চাষিদের উৎসাহিত করছে। শীতকালীন সবজি চাষে এ ধরনের সফলতা স্থানীয় কৃষকদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” সরেজমিন দেখা যায়, আজিজুল হাকীমের একর জমিতে সবুজ কুইক স্টার বিটকপি ঘনবিপুলভাবে ছড়িয়ে আছে। মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের চোখে স্বচ্ছ আনন্দ ও চাষির মুখে সন্তুষ্টির হাসি প্রকৃত অর্থেই তার সফলতার প্রমাণ বহন করছে।
সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে নির্মাণাধীন ভবনে দেয়াল ধসে মোহাম্মদ ইউসুফ (২৬) নামে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল)বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জম হোসেন। নিহত ইউসুফ সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র তিন মাস আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। দুর্ঘটনার সময় তিনি একটি নির্মাণাধীন ভবনে বৈদ্যুতিক কাজ করছিলেন। এসময় হঠাৎ দেয়াল ধসে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ইউসুফ বিবাহিত ছিলেন এবং তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সমুদ্রপথে পেতে রাখা নৌ-মাইনগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত ও অপসারণে তেহরান কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাদের মতে, প্রণালিতে মাইন বসানোর প্রক্রিয়া ছিল অগোছালো, ফলে কোথায় কতটি মাইন স্থাপন করা হয়েছে তার নির্ভরযোগ্য নথি নেই। এমনকি কিছু মাইন পানির স্রোতে স্থান পরিবর্তন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত সংঘাতের পর ওই কৌশলগত জলপথে ছোট নৌযানের মাধ্যমে মাইন স্থাপন ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বর্তমানে সীমিত একটি রুট খোলা থাকলেও সেখানে কড়াকড়ি শর্তে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, নির্ধারিত পথের বাইরে গেলে জাহাজগুলো মাইন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের মাইন অপসারণ অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ সামরিক অভিযান, যা উন্নত প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত সক্ষমতা ছাড়া বাস্তবায়ন কঠিন। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাই অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
আসন্ন কূটনৈতিক সংলাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন আব্বাস আরাগচি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি জানান, অতীতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কূটনৈতিক আচরণের কারণে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম অধিকার সুরক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও তাদের অবস্থান হবে সতর্ক ও শর্তসাপেক্ষ। উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্যাশা থাকলেও, আলোচনার প্রাক্কালে ইরানের এমন কঠোর অবস্থান সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান। তার আইনি পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— শেখ হাসিনা ভারতে কোন আইনি স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তিনি ‘অনুপ্রবেশকারী’ নাকি ‘শরণার্থী’? এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও কেন্দ্র সরকার এ ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করছে, যা রাজনৈতিক দ্বৈতনীতির ইঙ্গিত বহন করে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নাগরিক তালিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ ইস্যু ঘিরে বিষয়টি এখন কূটনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং চীনা অতিথিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সকালের অনুষ্ঠানে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং অন্তরীপ শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এতে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এই অংশটি ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বিকেলের অনুষ্ঠান পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়, যা দিবসটির তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে। আলোচনা সভায় ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ বেঙ্গল স্টাডিজের সভাপতি প্রফেসর দং ইয়ুচেন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু গুয়াংয়ু বাংলা ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেন। প্রফেসর দং ইয়ুচেন বলেন, "ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বের ভাষাগত বৈচিত্র্যের সংরক্ষণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।" ইয়ু গুয়াংয়ু যোগ করেন, "চীনে বাংলা ভাষার প্রসারে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, এবং এই দিবসটি আমাদের অনুপ্রাণিত করে।" রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, "১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তীতে স্বাধিকার আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমি আহ্বান জানাই, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করুন।" অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর ইফতার আয়োজন এবং আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানটি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগরূক করেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী ভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
ব্যক্তিগত স্মৃতির ভাণ্ডার থেকে এক বিশেষ ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা। একটি সাম্প্রতিক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ২০০৩ সালে তার অভিনীত চলচ্চিত্র দেখে মুগ্ধ হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গ্যারিসন সিনেমা হলে ‘মনের মাঝে তুমি’ চলচ্চিত্রটি উপভোগ করার পর ওই চিঠিতে চলচ্চিত্রটির শিল্পীদের প্রশংসা করা হয় এবং মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পূর্ণিমা বলেন, সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না থাকায় চিঠিটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছিল, যা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া জাগায়। একই অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, রায়হান রাফী পরিচালিত ‘দহন’ ও ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে কাজগুলো করা হয়নি। এছাড়া নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় তিনি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত না হলেও পরবর্তীতে অভিনয়ের সুযোগ পান।
দু’মাস আগে বিয়ে সম্পন্ন করা রাশমিকা মান্দানা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার দুই থেকে তিন হতে চলেছি’ এমন ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছেন। তবে প্রকৃত অর্থটি ছিল পারিবারিক নয়, বরং সৃজনশীল উদ্যোগের সম্প্রসারণ। অভিনেত্রী রাশমিকা তার নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘রাশমিকা অ্যান্ড রু’ চালু করেছেন, যেখানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি অ্যানিমেশন চরিত্র ‘রু’। জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সংস্থা ‘টেরিবলি টাইনি টেলস’-এর সহযোগিতায় রাশমিকার ব্যক্তিত্ব ও অ্যানিমে অনুরাগকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন কনটেন্ট। এই প্রকল্পে এবার অংশ নিয়েছেন তার স্বামী বিজয় দেবরাকোন্ডা, ফলে ‘দুই থেকে তিন’-এর ঘোষণা মূলত তাদের সৃজনশীল কাজের সম্প্রসারণের প্রতীক। প্রথমে অনেক ভক্ত বিষয়টি ভুল বুঝে রাশমিকাকে মা হওয়ার সম্ভাবনায় শুভেচ্ছা জানালেও পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রকৃতি স্পষ্ট হওয়ার পর আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা সুজাত শিমুল। তিনি জানান, বিকেল ৫টার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শামস সুমন। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করা শামস সুমন পরবর্তীতে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে সমানভাবে কাজ করে দর্শকমহলে পরিচিতি অর্জন করেন। একসময় ছোট পর্দার নিয়মিত মুখ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’, ‘চোখের দেখা’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘জয়যাত্রা’, ‘নমুনা’ ও ‘হ্যালো অমিত’। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিনোদন অঙ্গনে আলোচিত ইকরা ইভনাথ হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে সাফ জানালেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৪টি ব্যক্তিগত চ্যাট স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল এবং তিনি কখনোই ইকরাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেননি। তিথি জানান, ইকরার মানসিক অবসাদ, পারিবারিক অশান্তি এবং ব্যক্তিগত হতাশাই মূল কারণ, যা তার মৃত্যুর পেছনে প্রভাব ফেলেছিল। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচার। তিথি আরও বলেন, ইকরাকে তিনি পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে সমর্থন করেছেন এবং কখনোই কোনোভাবে সংসার ভাঙার বা সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করেননি। পোস্টে তিথি, ইকরার পরিবারের সঙ্গে তার দূরত্ব এবং মানসিক কষ্টের বিষয়ও তুলে ধরেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে এই ঘটনায় ন্যায্য তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। পোস্টের শেষাংশে ইফফাত আরা তিথি ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শান্তিতে থাকার প্রার্থনা জানিয়েছেন।
• জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট • অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি • নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য • ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি চার ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ । এগুলো হলো জ্বালানি স্বল্পতা,অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীত,নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ মূল্য এবং ব্যাংকিং খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণ। চলতি এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত এসব ইস্যুগুলো প্রকাশ করা হয়। চলমান জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভঙ্গুরতা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং নীতিগত কাঠামোর সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা শীর্ষক সংলাপে সম্প্রতি তিনি এ কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। এতে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন, শিল্প ও কৃষি খাতে ইতোমধ্যেই ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতিতে ইতোমধ্যে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে শিল্প ও পরিবহন খাতে বড় প্রভাব ফেলছে । শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ এবং শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়,আগামী ৩ মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।জরুরিসেবা ছাড়া সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে। এদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন থেমে গেলে অর্থনীতির ওপর বহুমাত্রিক চাপ তৈরি হয়। এতে কর্মসংস্থান কমে, রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাজারে পণ্যের দাম বাড়ে। তাই শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আশার কথা হলো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে নতুন কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। এর আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের নিত্যপণ্য বাজার এক অদৃশ্য আগুনে পুড়ছে। প্রতিদিন মানুষ যা দেখছে, তা শুধু পণ্যের দাম নয় একটি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। মূল্যস্ফীতি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ও মানসিক সংকটও। মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান যত বাড়ে, সমাজে অনিশ্চয়তা, হতাশা ও অপরাধপ্রবণতা তত বাড়ে।মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক চিত্র হলেও বড় ধরণের মুদ্রাস্ফীতিকে অর্থনীতির জন্য অভিঘাত হিসেবে দেখা হয়। দেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নামছে না। মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের জীবনে কষ্ট বাড়ছে। বিনিয়োগ, ব্যবসা -বানিজ্য, রপ্তানি আয়- কোথাও স্বস্তির খবর নেই। ব্যাংকিং খাত এখনো নড়বড়ে অবস্থায়। এসব বিষয় অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ, যুদ্ধ, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিনিয়োগ কমায় এবং ভোক্তাদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে । মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। রাজস্ব সংগ্রহ কম হওয়ায় সরকারের আয়ও কমেছে অনেক। এতে বিভিন্ন খাতের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। রাজস্ব সংগ্রহের এই ধীরগতি ও ঘাটতির কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংকুচিত হচ্ছে, ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে সরকার। এর পেছনে কর ফাঁকি, আয়ের বৈষম্য ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা দায়ী। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেই ধারা থেকে এখনও বের হতে পারছে না সংস্থাটি। এতে ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই চলছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এনবিআরের রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এতে করে ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম অবস্থায় সরকার। চলতি অর্থবছরের কোনো মাসেই আদায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়নি, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রতি মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ঘাটতি মেটাতে এনবিআর-এর করজাল বিস্তার ও কর ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পরিবহন খরেচের অজুহাতে ও জ্বালানি তেলের সংকটের ফলে পরিবহন ভাড়া, এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে । উৎপাদন ঘাটতি, আমদানিতে ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস ও চাল-ডালসহ সবকিছুর দাম চড়া।জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় ট্রাক ও ভ্যান ভাড়া বেড়েছে, ফলে পণ্য পরিবহনে খরচ ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে । সার, বীজ ও সেচের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে । পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে । টাকার অবমূল্যায়নের ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বেড়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বড় সমস্যাগুলোর একটি খেলাপি ঋণ। সময়ের সঙ্গে এই সমস্যা ছড়িয়ে পড়ছে উৎপাদনমুখী শিল্প খাতেও। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের বড় একটি অংশ রয়েছে শিল্প খাতে, আর এই খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে তীব্র তারল্য সংকট এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। খেলাপি ঋণ ক্যানসারের মতো আর্থিক খাতকে ক্ষয় করছে, যার ফলে আমানতকারীদের আস্থায় চাপ এবং নতুন বিনিয়োগে শ্লথগতি তৈরি হয়েছে । রাজনৈতিক প্রভাব, বিগত সরকারে আমলে অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের দৌরাত্ম্য এই পরিস্থিতির মূল কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে খেলাপির হার এখনো অত্যন্ত বেশি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তবুও এটি আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি। জানা গেছে, ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ ৫০ কোটি টাকার ওপরে। এসব ঋণে খেলাপির হার ৫১ শতাংশ। ছোট ঋণে খেলাপি মাত্র সাড়ে ২১%। ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের ধরন ও খেলাপির হার নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, যত বড় ঋণ, খেলাপিও তত বেশি। আর ছোট ও মাঝারি ঋণে খেলাপি কম। প্রতিবেদনের তথ্য ও ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তুলনামূলক বেশি সুদে ঋণ নেন। তারপরও তাঁরা সেই ঋণ পরিশোধে অত্যন্ত তৎপর থাকেন। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ কম। তার বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণে সুদহার থাকে কম। তারপরও বড় ঋণের গ্রাহকেরা কম সুদের সেই ঋণ ফেরতে নানা গড়িমসি করেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ঋণ পরিশোধ না করে উল্টো নানা ধরনের ছাড় পান। ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেছেন, এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতের প্রধান সংকট তারল্য নয়, বরং উচ্চ খেলাপি ঋণ, যা এক ধরনের ‘ক্যানসারের মতো’ ভিতর থেকে খাতটিকে ক্ষয় করছে। এদিকে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি শনাক্ত করতে তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ অটোপাশ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলার শিকার হয়েছেন। গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে তাঁর গাড়িতে শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে ভিসি চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। ঘটনাটি মূলত ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীরা কিছু বিষয়ে ফেল করলেও অটোপাশের দাবিতে আন্দোলন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দাবি অযৌক্তিক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২১ মে একই ধরনের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ভিসি আহত হয়েছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ-সংযোগ বিভাগ স্পষ্ট করেছে, ‘অন্যায্য দাবি ও অযৌক্তিক আবদারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সহানুভূতি দেখাবে না। অটোপাশ চালু হলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও জুলাই-পরবর্তী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ‘কোরাম’ বা গোষ্ঠীভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করেন তিনি। পোস্টে নেপাল-এর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আম্মার মন্তব্য করেন, সেখানে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা সরকার গঠন করতে পেরেছেন—কারণ সেখানে ঢাবিকেন্দ্রিক ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম’ ধরনের রাজনীতির প্রভাব নেই বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের সঙ্গে অনেকেই একমত হতে পারেন। রাকসুর এই নেতা তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের দাবি, সংগঠনিক ভূমিকা বা ব্যক্তিগত অবদান নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা তার ভাষায় ‘অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন চলাকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর উদ্যোগ বা কর্মসূচি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। পোষ্য কোটা আন্দোলনের সময়ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, জুলাই-সম্পর্কিত নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন ঢাবিকেন্দ্রিকভাবে বড় পরিসরে হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে তিনি অবহেলার মুখে পড়েছেন। স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে জনপ্রিয়তা বা অনুসারীর সংখ্যার ভিত্তিতে মূল্যায়নের প্রবণতার সমালোচনা করেন এবং নেপাল-এর নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে শুভকামনা জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ প্রকাশ করেছে, যা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত। নীতিমালা সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় করতে পারবে না। বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কোনো নতুন খাত তৈরি করে অর্থ আদায় করা যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুসারে পরিচালনা করতে হবে। হিসাব সংরক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির উপর যৌথভাবে চাপানো হয়েছে। আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধ থাকবেন। নীতিমালায় ব্যাংকিং ও অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত সব ফি, দান-অনুদান ও সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক বা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। জরুরি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নগদ অর্থ গ্রহণ সম্ভব, যা দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া, আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করার আগে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা নিরাপদ ও সুষ্ঠু করতে রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালী। সভায় জানানো হয়, বি.এস-সি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা সকাল ৯টা ৩০ থেকে দুপুর ১২টা ৩০ পর্যন্ত, আর বিআর্ক প্রোগ্রামের অংকন পরীক্ষা দুপুর ১২টা ৪৫ থেকে ১টা ৪৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডীনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের নিরাপত্তা, যানজট ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধসহ পরীক্ষা চলাকালীন সকল প্রস্তুতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। ভাইস-চ্যান্সেলর ড. মাকসুদ হেলালী বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত দায়িত্ব অপরিহার্য।”
জাতীয় দলের বাইরে দীর্ঘদিন অবস্থান ও সাম্প্রতিক অনিয়মিত ক্রিকেট কার্যক্রমের কারণে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক। শনিবার (১১ এপ্রিল) নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, সাকিবের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ হয়েছে, তবে তার বর্তমান প্রস্তুতি ও ফিটনেস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানদণ্ডে যথেষ্ট কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সাকিবের অবস্থানস্থলে নিয়মিত ক্রিকেট ও ট্রেনিংয়ের সুযোগ সীমিত, যা জাতীয় দলে ফিরতে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিসিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘমেয়াদে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকে দলে রাখতে আগ্রহ থাকলেও তার পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত না হলে তা সম্ভব নয়। ২০২৪ সালের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেললেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু টুর্নামেন্টে দল পাননি তিনি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে তিন মাস মেয়াদের ১১ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের পেছনে কমিটির গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ রয়েছে। নতুন এডহক কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা। এনএসসি জানিয়েছে, পুরনো পরিচালনা পর্ষদ ভাঙার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসিকে ইমেইলে জানানো হয়েছে এবং এডহক কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, নতুন কমিটি দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। বিস্তারিত আসছে...
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ ও পক্ষপাতিত্ব বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তবে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাক্ষাৎকারে অংশ নেননি। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে কমিটি জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কাউকে অভিযুক্ত করা নয়, বরং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা। কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান জানান, আসিফ মাহমুদকে চিঠি প্রেরণ করে সাক্ষাৎকারের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি হাজির হননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এবং উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় থাকা কারণে তিনি তদন্ত কমিটির ডাক মেনে চলতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং অংশগ্রহণ করলে তিনি নিয়মবিরুদ্ধভাবে আদালত অবমাননার পরিস্থিতিতে পড়তেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি নিয়ম ও সংবিধানের সীমারেখা অতিক্রম করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবো না।” এ বিষয়ে কমিটি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করা, কোনো ব্যক্তির দোষারোপ নয়। এই ঘটনায় বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতার মধ্যে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে উঠে এসেছে।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হ্যানয়ের হাং জু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচকে সামনে রেখে কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা করেছেন, যেখানে শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে রাখা হয়েছে। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮১ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম অবস্থান করছে ১০৫ নম্বরে, যা দুই দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান নির্দেশ করে। তবুও প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন কোচিং স্টাফ। দলে গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। রক্ষণভাগে আছেন শাকিল আহাদ তপু, তারিক কাজী ও সাদ উদ্দিন। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করবেন সোহেল রানা। কার্ড জটিলতা কাটিয়ে একাদশে ফিরেছেন ফাহমিদুল ইসলাম, আর আক্রমণভাগে থাকছেন সামিত সোম ও জায়ান আহমেদ। বাংলাদেশ দল পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছে, যেখানে কৌশলগত ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, পৃথিবীর জলবায়ু বর্তমানে নজিরবিহীন শক্তির ভারসাম্যহীনতার মধ্যে রয়েছে, যেখানে গ্রহটি তাপ নির্গমনের তুলনায় অধিক পরিমাণ তাপ শোষণ করছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকে দায়ী করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই তাপীয় ভারসাম্যহীনতার ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলন ত্বরান্বিত হয়েছে। একই সঙ্গে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এল নিনো প্রক্রিয়া সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দেশগুলোর প্রতি জীবাশ্ম জ্বালানি পরিত্যাগ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জলবায়ুর প্রতিটি সূচকই বর্তমানে ‘লাল সংকেত’ প্রদর্শন করছে। ডব্লিউএমওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮৫০ সালের পর থেকে গত ১১ বছরই ছিল সর্বোচ্চ উষ্ণতম। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বর্তমান মাত্রা গত ২০ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, যার অধিকাংশ তাপ সমুদ্রে জমা হয়ে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান ও আবহাওয়াগত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মানবসৃষ্ট উষ্ণায়ন ও সম্ভাব্য এল নিনোর যৌথ প্রভাবে আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে, যা জলবায়ু ঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তুলবে।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসেছে ইউক্রেন। পশ্চিমা সমর্থিত ইউক্রেনীয় প্রশাসন এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিয়েভ এবং মস্কোর মধ্যকার আলোচনার বিষয়বস্তু এখনো পুরোপুরি প্রকাশ না হলেও, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে—প্রস্তাবিত চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি, নিরাপদ সীমান্ত নির্ধারণ, যুদ্ধবন্দি বিনিময় এবং পূর্ব ইউক্রেনের ভবিষ্যত রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা একটি টেকসই শান্তির পথ খুঁজছি, তবে তা হবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড অক্ষুন্ন রাখার ভিত্তিতে।” রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছে এবং একে "গঠনমূলক প্রক্রিয়া" বলে উল্লেখ করেছে। তবে তারা পশ্চিমা সামরিক প্রভাব থেকে ইউক্রেনকে মুক্ত রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা এখনো সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সতর্ক করেছে যাতে তারা চাপে পড়ে কোনও অসম চুক্তিতে না যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা চাই ইউক্রেন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিক, তবে মনে রাখতে হবে—শান্তি চুক্তি যেন যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তির সুযোগ না দেয়।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া বর্তমানে কৌশলগতভাবে কিছুটা দুর্বল অবস্থানে থাকলেও, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের কিছু সাফল্যও রয়েছে। বিশেষ করে দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনী আংশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের দাবিকে শক্তিশালী করতে পারে। এদিকে, ইউক্রেনের জনগণের মধ্যেও এই আলোচনাকে ঘিরে মতভেদ রয়েছে। একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধক্লান্তি থেকে মুক্তির পথ এটি, অন্যদিকে অনেকে বলছে—এটি মূলত রাশিয়ার পক্ষে আত্মসমর্পণের আরেক নাম। চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো ও চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনায় একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হতে পারে, যার আওতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইসঙ্গে যুদ্ধবন্দিদের বিনিময়, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা এবং দেশান্তরিত জনগণকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—ক্রাইমিয়া ও ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণ। রাশিয়া ক্রাইমিয়াকে ইতোমধ্যেই তাদের অংশ বলে দাবি করে আসছে, অন্যদিকে ইউক্রেন কোনোভাবেই এই অঞ্চলগুলোর উপর রুশ আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। মস্কোভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক আন্দ্রেই লুকাশেঙ্কো বলেন, “যদি উভয় পক্ষই বাস্তববাদী অবস্থান গ্রহণ করে, তবে একটি সীমিত পরিসরের চুক্তি সম্ভব হতে পারে, তবে এর জন্য উভয়পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে।” তবে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট—এই আলোচনা যতই অগ্রসর হোক না কেন, এটি পুরোপুরি সফল হতে হলে পশ্চিমা শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ ও সমর্থন অপরিহার্য। কারণ ইউক্রেনের সামরিক ও আর্থিক সহায়তার বড় উৎসই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো। এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায় আগ্রহের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহেই হয়তো জানা যাবে—দীর্ঘ যুদ্ধের পর প্রকৃত শান্তির পথে কতটা এগোতে পারল ইউক্রেন ও রাশিয়া।
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন একজন তরুণ, মুসলিম, প্রগতিশীল নেতা—জোহারান মামদানি। তার বয়স মাত্র ৩৩ বছর, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি নিউইয়র্কবাসীর দৃষ্টি কেড়েছেন সাহসী বক্তব্য, সমাজকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং ভিন্নধারার রাজনৈতিক দর্শন দিয়ে। অনেকেই বলছেন, নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হতে পারেন এই মুসলিম তরুণ। মামদানির পরিচয় জোহারান মামদানি একজন মুসলিম এবং ভারতীয়-উগান্ডীয় বংশোদ্ভূত। তার মা বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার, আর বাবা মোহাম্মদ মামদানি একজন নামকরা শিক্ষাবিদ। মামদানি শৈশবেই উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কেই বড় হন। তিনি বর্তমানে অ্যাস্টোরিয়াতে বসবাস করেন এবং পেশাগতভাবে একজন হাউজিং কাউন্সেলর থেকে রাজনীতিবিদ হয়েছেন। রাজনীতিতে প্রবেশ ২০২০ সালে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের সমর্থনে কুইন্স জেলার ৩৬ নম্বর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তিনি নিজেকে "জনগণের প্রতিনিধি" হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি গৃহহীন, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। তার মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ফ্রি পাবলিক বাস সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যার সুযোগ মুসলিম সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী জোহারান মামদানি এখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের জন্য বিবেচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। প্রথাগত রাজনীতিবিদদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ও অভিবাসীদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হন, তবে এটি নিউইয়র্কের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হবে। মুসলিম পরিচয় এবং নেতৃত্ব একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে মামদানি কখনও নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকাননি। বরং তিনি ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে সমাজসেবা ও ন্যায়ের কথা বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। তিনি ‘Students for Justice in Palestine’ নামক সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও ন্যায়ের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। উপসংহার জোহারান মামদানি শুধু একজন মুসলিম রাজনীতিবিদ নন, তিনি বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। একদিকে তার তরুণ নেতৃত্ব, অন্যদিকে তার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নতুন দিশা দিতে পারে। নিউইয়র্কবাসীর আশাবাদ—এই তরুণ যদি মেয়র হন, তবে নগরবাসীর প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে আমরা এক নতুন ইতিহাস দেখতে পারি।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ সংক্রান্ত প্রচারিত তথ্যকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উল্লেখ করেছেন। নিজের পোস্টে একটি ইংরেজি উদ্ধৃতি শেয়ার করে তিনি পরোক্ষভাবে গুঞ্জনকারীদের সমালোচনা করেন, যা রাজনৈতিক মহলে তার অবস্থান পরিষ্কার বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। এমনকি দলটির শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগের খবরও সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও দলীয় পর্যায় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় এবং রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়েছে যে, আপাতত এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি বাস্তবায়নের পর্যায়ে নেই।
গণভোট-সংক্রান্ত জনরায় বাস্তবায়নে বিলম্বের অভিযোগ তুলে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার উদ্যোগে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিল শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহ। সংগঠনের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মুহাম্মদ দাউদ খান জানান, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে তারা গণভোটের আলোকে জনমতের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করবে।
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর স্ত্রীদের জানাজায় প্রবেশের সময় তাকে পেছন থেকে ‘জঙ্গি এমপি’ সম্বোধন করা হয়। তিনি এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেন। সংসদে উত্থাপিত জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের পর হানজালা বলেন, “সম্ভবত আমার পোশাক ও পাগড়ি দেখেই আমাকে এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। এটি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।” তিনি স্পিকারের কাছে সিসি ফুটেজ যাচাই করে নিরাপত্তা বাহিনীকে দোষীদের শনাক্তের নির্দেশের অনুরোধ জানান। ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে স্পিকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নোটিশ দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৫টায় উপজেলার ফয়লাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ আয়োজন করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে ছাত্রশিবির রামপাল পশ্চিম শাখা। অনুষ্ঠানে শাখা সেক্রেটারি মো. মুরছালিন শেখের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শাখা সভাপতি শাকিল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মো. জিহাদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি হাফেজ মোরশেদ আলম, এইচআরডি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সিনান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাগেরহাট জেলা সিনিয়র আহ্বায়ক খালিদ হাসান নোমান, মীর সাব্বির এবং ছাত্রদলের রামপাল উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক মোল্লা তারিকুল ইসলাম শোভনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী, সুধীজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। অনুষ্ঠানে বক্তারা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইফতার মাহফিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।