শিরোনাম
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এখনও অপেক্ষা
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এখনও অপেক্ষা

নতুন (নবম) পে-স্কেল আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একই সময়ে এ সুবিধা পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

বাজেট-পরবর্তী আলোচনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ভাতা-সংক্রান্ত সমন্বয়ও পরবর্তী সময়ে করা হতে পারে।

ফলে ১ জুলাই থেকেই পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে—এমনটি নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিভিন্ন বোর্ড, করপোরেশন, কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রে একই নীতিমালা প্রযোজ্য নয়। কেউ সরাসরি সরকারি বেতন কাঠামো অনুসরণ করেন, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব সার্ভিস রুলস বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

এ কারণে সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে তারা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা কবে এবং কীভাবে পাবেন।

সব মিলিয়ে, নবম পে-স্কেলের নিশ্চিত সুবিধাভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।

১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর
১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন কাঠামোয় প্রায় সব গ্রেডেই মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মধ্যে বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারীর মাসিক আয় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে প্রধান গ্রেডগুলোর মূল বেতন

  • গ্রেড-১ : ১,৬০,০০০ টাকা
  • গ্রেড-২ : ১,৩২,০০০ টাকা
  • গ্রেড-৩ : ১,১৩,০০০ টাকা
  • গ্রেড-৪ : ১,০০,০০০ টাকা
  • গ্রেড-৫ : ৮৬,০০০ টাকা
  • গ্রেড-৯ : ৪৫,১০০ টাকা
  • গ্রেড-১০ : ৩২,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১১ : ২৫,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১২ : ২৪,৩০০ টাকা
  • গ্রেড-১৩ : ২৪,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১৪ : ২৩,৫০০ টাকা
  • গ্রেড-১৫ : ২২,৮০০ টাকা
  • গ্রেড-১৬ : ২১,৯০০ টাকা
  • গ্রেড-১৭ : ২১,৪০০ টাকা
  • গ্রেড-১৮ : ২১,০০০ টাকা
  • গ্রেড-১৯ : ২০,৫০০ টাকা
  • গ্রেড-২০ : ২০,০০০ টাকা

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রণীত এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনের দক্ষতা ও কর্মোদ্যম আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত এই পে-স্কেলকে দেশের প্রশাসনিক খাতে অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, বেতন বৃদ্ধি সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে, তবে এর প্রভাব মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে।

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই পে-স্কেল কার্যকর হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তবে বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা ও ভাতা কাঠামোর বিষয়ে সরকারের পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।