শিরোনাম
টয়লেটে ভিডিও ধারণের পর মারধর

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিপন আহমেদ, মানিকগঞ্জ>
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক যুবক ও তাঁর নারীসঙ্গীর গোপনে ভিডিও ধারণের পর তাঁদের আটকে রেখে মারধর, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কয়েকজন আনসার সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার দিবাগত রাতে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী যুবক জানান, রোববার বিকেলে হরিরামপুর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাঁর অসুস্থ নানীকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। নানীর দেখাশোনার জন্য তাঁর এক নারীপরিচিতও হাসপাতালে ছিলেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে হাসপাতালের একটি টয়লেটে অবস্থানকালে দায়িত্বরত ওয়ার্ডবয় শাহিন তাঁদের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ।
এর কিছুক্ষণ পর তাঁদের হাসপাতালের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ওয়ার্ডবয় শাহিনসহ কয়েকজন আনসার সদস্য তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তাঁদের কাছ থেকে একটি আইফোন-১৩ মোবাইল ফোন ও নগদ ৩ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ।
ভুক্তভোগী যুবকের আরও অভিযোগ, প্রায় আধা ঘণ্টা পর ওয়ার্ডবয় শাহিন ও তাঁর এক সহযোগী ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে নারীসঙ্গীকে নিয়ে রাত কাটানোর আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে ঘটনার পর হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলম ও সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) রাসেল এই প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ফেরত দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই যুবক ও তাঁর নারীসঙ্গীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানলাম।” পরে তিনি আনসার কমান্ডার ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক খোঁজ নেন।
সহকারী প্লাটুন কমান্ডার রাসেল বলেন, “সকাল ৯টার দিকে ওয়ার্ডবয় শাহিনের সঙ্গে দেখা হলে আমি ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি নাস্তা খেয়ে আসবেন বলে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি।”
অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় শাহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর