শিরোনাম
নাব্যতা সংকটে নীলফামারীর নদী, পুনঃখননের দাবি
নাব্যতা সংকটে নীলফামারীর নদী, পুনঃখননের দাবি

নীলফামারী জেলার অধিকাংশ নদী নাব্যতা হারিয়ে অল্প পানিতেই ভরাট হয়ে পড়েছে। অনেক নদী এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, পার হতে হাঁটুজলের বেশি পানি পাওয়া যায় না। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি, নদী দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত খননের কারণে জেলার নদীগুলো তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ ও বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে।

শুষ্ক মৌসুমে জেলার বেশিরভাগ নদী ফসলি জমিতে পরিণত হয়। নদীর তলদেশ ও তীর দখল করে ইরি ও বোরো ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, কুমড়া, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে বর্তমানে ৩০টি মরা ও প্রবাহমান নদ-নদী রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা, বুড়িতিস্তা, চাড়ালকাটা, বুড়িখোড়া, ধুম, বামনডাঙ্গা, পাঙ্গা, কুমলাই, নাউতারা, যমুনেশ্বরী, ইছামতি, খড়খড়িয়া, ধাইজান ও চিকলী উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উজান থেকে আসা পলি-বালি, অব্যাহত দখল ও দূষণের কারণে নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বাইরে থেকে নদীগুলো পানিতে পরিপূর্ণ মনে হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে নেমে এসেছে হাঁটুজল পর্যন্ত।

নদী রক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভারাইন পিপল বাংলাদেশের পরিচালক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় অবৈধ মাছের ঘের, খামার ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পলি, বালি, দখল ও দূষণের কারণে নদীগুলো দ্রুত নাব্যতা হারাচ্ছে। একসময় নীলফামারীতে ৩৭টি নদী থাকলেও অব্যবস্থাপনা ও দখলের কারণে ইতোমধ্যে সাতটি নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট নদীগুলো রক্ষায় পরিকল্পিত খনন ও নিয়মিত তদারকির বিকল্প নেই।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান জানান, উজান থেকে আসা পলি ও বালির কারণে চাড়ালকাটা, যমুনেশ্বরী, ধাইজান, খড়খড়িয়া ও চিকলী নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে চর জেগে উঠেছে এবং নদীর ধারণক্ষমতা কমে গেছে।

তিনি বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে দেশব্যাপী নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে আবারও নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো খনন না করা হলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নদীর নাব্যতা সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। চলতি মৌসুমে বড় ধরনের বন্যা না হলেও নদী ভরাট থাকায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধান ও ভুট্টা চাষে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় ভুট্টা চাষি রবীন্দ্র নাথ জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তিনি সময়মতো ভুট্টা সংগ্রহ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অপেক্ষার পর অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল ব্যবহার করে ভুট্টা সংগ্রহ করতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে নিয়মিত পুনঃখননের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক নাব্যতা ও প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

৭ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরকে ১ নম্বর সংকেত
৭ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরকে ১ নম্বর সংকেত

দেশের সাতটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃসতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এটি দেশের বাকি অংশেও বিস্তার লাভ করতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) ও শনিবার (১৩ জুন) দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, নদী ও জলাশয়ে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝড়ের সময় বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।